সরকারি তদন্তে অনিয়ম প্রমাণ, এমপিও বন্ধ—তবুও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিয়োগে বকশীগঞ্জে তীব্র ক্ষোভ
বকশীগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি :
নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির সত্যতা সরকারি তদন্তে প্রমাণিত হওয়ার পর মাসিক বেতন-ভাতা (এমপিও) বন্ধ থাকা এক শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়ায় জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় ব্যাপক ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার সাধুরপাড়া নজরুল ইসলাম উচ্চ বিদ্যালয়ে। অভিযোগ রয়েছে, বিতর্কিত ওই শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গতকাল (৫ জানুয়ারি) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় এলাকাবাসী। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা প্রধান শিক্ষকের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ তার আপন শালিকা শরিফা আক্তারকে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দেন। অভিযোগ রয়েছে, এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম ও ‘ব্যাক ডেট’ ব্যবহার করা হয়, যা দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষকরা জানতেন না।
পরবর্তীতে সরকারি তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় মাউশি সাবেক প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ ও সহকারী প্রধান শিক্ষক শরিফা আক্তারের এমপিও বাতিল করে দেয়। অথচ এমপিও বন্ধ থাকা সেই সহকারী প্রধান শিক্ষক শরিফা আক্তারকেই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়—যা নিয়ে শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়।
গতকাল সকাল ১১টায় বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানান এবং অবিলম্বে তা বাতিলের দাবি জানান। বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক আব্দুল মালেক বলেন,
“যার দুর্নীতির মাধ্যমে নিয়োগের কারণে বেতন-ভাতা বন্ধ রয়েছে, তাকে কোন যুক্তিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক করা হলো—তা আমাদের বোধগম্য নয়। আমরা এই সিদ্ধান্ত বাতিল চাই।”
সহকারী শিক্ষক মাসুদুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“একজন বিতর্কিত ব্যক্তি যদি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান হন, তাহলে শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমরা দ্রুত তার অপসারণ দাবি করছি।”
এসময় সাবেক অভিভাবক সদস্য মনিরুল ইসলাম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন,
“দ্রুত তাকে দায়িত্ব থেকে অপসারণ না করা হলে এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আব্দুল হাই বলেন,
“মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কোনো ধরনের পরামর্শ না করেই শরিফা আক্তারকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের চিঠি দিয়েছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। আলোচনা সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও বিতর্কিত সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।




