সাজ্জাদ হোসাইন শাহিন,মেলান্দহ,জামালপুর:
সরিষা চাষে আগ্রহ বাড়ায় জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আবাদ হয়েছে। কম খরচে বেশি লাভ ও অনুকূল আবহাওয়ায় এবার সরিষার ফলন ভালো হবে বলে আশা করছেন কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ মৌসুমে মেলান্দহ উপজেলায় সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৭ হাজার ১২০ হেক্টর জমি। তবে আবাদ হয়েছে ৭ হাজার ১২২ হেক্টর জমিতে। গত কয়েক বছরের পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৩ সালে ৬ হাজার ৫০০ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৬ হাজার ৫৭০ হেক্টর এবং ২০২৪ সালে ৬ হাজার ৯০০ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৬ হাজার ৯৭০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছিল। এ হিসেবে গত কয়েক বছরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত ৩৪২ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে।
কৃষি বিভাগ জানায়, উপজেলায় বারি-১৪, বারি-১৫, বিনা-৯, বিনা-১১ ও টরি-৭ জাতের সরিষার আবাদ হচ্ছে। এর মধ্যে স্বল্প সময়ে ঘরে তোলা যায় বলে বারি-১৪ জাতের সরিষার চাষ সবচেয়ে বেশি। বীজ বপনের ৭৫ থেকে ৮০ দিনের মধ্যেই বারি জাতের সরিষা সংগ্রহ করা যায়। অপরদিকে বিনা জাতের সরিষা তুলতে সময় লাগে ১০৫ থেকে ১১০ দিন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ঝাউগড়া ইউনিয়নের শেখসাদী রৌসারি বিল , চরবানিপাকুরিয়া ইউনিয়নের বাকাই, শিহুরী বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সরিষার হলুদ ফুলে ছেয়ে গেছে। শেখসাদিী রৌমারি বিলের দৃষ্টিনন্দন এসব সরিষা ক্ষেত দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন হাজারও দর্শনার্থীরা। অনেকেই খেতের আইলে বসে ছবি তুলছেন ও ভিডিও করছেন। আবার কেউ কেউ সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহের জন্য মাঠের পাশে মৌ-বাক্স স্থাপন করেছেন।
ঝাউগড়া ইউনিয়নের শেখসাদী গ্রামের কৃষক আব্দুস সালাস জানান, সরিষা চাষে সময় ও খরচ কম লাগে অথচ ফলন ও বাজারদর ভালো পাওয়া যায়। সরিষার তেল খাওয়া যায় , এর খৈল গো-খাদ্য ও জৈবসার হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এমনকি শুকনো গাছ জ্বালানি হিসেবেও কাজে আসে। এসব সুবিধার কারণে প্রতিবছরই তারা সরিষা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন বলে জানান কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুর রউফ বলেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মোট ৭ হাজার ১২২ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। এ মৌসুমে উপজেলার ৫ হাজার ৩০০ জন সরিষা চাষির মাঝে বিনামূল্যে উন্নতমানের বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন করছেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার চাহিদার তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সরিষা উৎপাদন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।




