Skip to content
প্রকাশ- November 2, 2026 , 20:59 pm
অন্যান্য

বাংলাদেশে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চায় না ভারত: মাহমুদুর রহমান

বাংলাদেশে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চায় না ভারত: মাহমুদুর রহমান

Oplus_131072

মুক্তকাল ডেক্স
প্রকাশ : ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫
বাংলাদেশে একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হোক—এটি ভারতের স্বার্থের বিরুদ্ধে বলে মন্তব্য করেছেন দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। তিনি বলেন, ভারতের রাজনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থের কারণেই তারা বাংলাদেশে একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক নির্বাচন চায় না।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ইলেকশন ওয়ার্কিং অ্যালায়েন্স ও ফেয়ার ইলেকশন অ্যাডভাইজরি কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত ‘আগামী জাতীয় নির্বাচন ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
আলোচনা সভার শুরুতে বিপ্লবী শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদির জীবনী পাঠ করা হয় এবং তার শাহাদাত কবুলসহ আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের বিজয় কামনায় দোয়া করা হয়।
মাহমুদুর রহমান বলেন, “বাংলাদেশে যদি সত্যিকার অর্থে একটি ফ্রি, ফেয়ার ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং জনগণের প্রকৃত মতামত প্রতিফলিত হয়, তাহলে ভবিষ্যৎ সরকার ভারতের বিভিন্ন অপকর্ম ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিতে পারবে। এতে আন্তর্জাতিকভাবেও ভারত চাপের মুখে পড়বে। তাই বাংলাদেশের অস্থিতিশীলতা ভারতের জন্য বেশি সুবিধাজনক।”
অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, একজন নেতৃত্বের প্রধান দায়িত্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা। ভুল সিদ্ধান্ত হলেও সিদ্ধান্ত নিতে হয়। কিন্তু বর্তমান সরকার যেন সময় পার করার নীতিতে চলছে—‘সময়ই সব সমস্যার সমাধান করবে’ এই মানসিকতা নিয়ে।
তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন সম্ভব কি না, সে বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। মাহমুদুর রহমান বলেন, সময় হাতে রয়েছে মাত্র ছয় সপ্তাহ। জুলাই বিপ্লবের পর রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তনের আশা করেছিলেন, কিন্তু এখনো দলীয় সংকীর্ণতার বাইরে কাউকে উঠতে দেখছেন না—যা জাতির জন্য দুর্ভাগ্যজনক।
নাগরিক সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে লিখিত অঙ্গীকার নিতে হবে—তারা যেন ভোট কারচুপি, কেন্দ্র দখল বা সহিংসতায় জড়িত না হয় এবং নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করে। অন্যথায় ইতিহাস তাদের ক্ষমা করবে না।
তিনি আরও বলেন, ভারত যেভাবে আওয়ামী লীগ সরকারকে শতভাগ সমর্থন দিয়েছে, ভবিষ্যতে অন্য কোনো সরকার সে ধরনের আন্তর্জাতিক সমর্থন পাবে না। যারা এমন আশা করে তারা আত্মপ্রবঞ্চনায় ভুগছে। তাই বিদেশি শক্তির ওপর নির্ভরশীল নয়—এমন একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. দিলারা চৌধুরী বলেন, দলীয় চিন্তাধারার ঊর্ধ্বে উঠে গণমাধ্যমকে নির্বাচনে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। তিনি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের ওপর জোর দিয়ে বলেন, সন্ত্রাসীদের অস্ত্র উদ্ধার না করে জনপ্রতিনিধিদের অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া জনগণের নিরাপত্তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
তিনি বলেন, তারেক রহমান দেশে ফেরার পর নির্বাচন নিয়ে আশঙ্কা অনেকটাই কেটেছে। তবে সরকারের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরিতে বাধা সৃষ্টি করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত ঢাকা-১০ আসনের প্রার্থী অ্যাডভোকেট জসীম উদ্দীন সরকার বলেন, শহীদ হাদির আত্মত্যাগ যে সংগ্রামের অংশ—সেই সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করে সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার পাশাপাশি একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
সভাপতিত্ব করেন ইলেকশন ওয়ার্কিং অ্যালায়েন্সের চেয়ারম্যান ও ফেয়ার ইলেকশন অ্যাডভাইজরি কমিটির সদস্য সচিব ড. মো. শরিফুল আলম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক একেএম ওয়ারিসুল করিম।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন অবসরপ্রাপ্ত সচিব ও সাবেক রাষ্ট্রদূত আবদুল মোতালেব সরকার, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. গোলাম রহমান ভুঁইয়া, সাবেক সিনিয়র সচিব ড. খ. ম. কবিরুল ইসলাম, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসরীন সুলতানা মিলি এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহিদুল ইসলাম।

Advertisement
Advertisement