সাজ্জাদ হোসাইন শাহিন, মেলান্দহ প্রতিনিধি:
ফসলি জমির উর্বর টপসয়েল কেটে ইটভাটায় সরিয়ে নেওয়ার ভয়াবহ তথ্য প্রকাশের পরও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি প্রশাসন। ফলে মেলান্দহের ফুলকোচা ও নয়ানগর ইউনিয়নের মেঘারবাড়ি এলাকায় মাটি খেকো সিন্ডিকেট আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। রাতের আঁধারে ট্রলি–মাহিন্দ্র যোগে মাটি পরিবহন এখন নিয়মিত দৃশ্যে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন—সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর তারা ভেবেছিলেন প্রশাসন মাঠে নামবে, অন্তত নজরদারি বাড়াবে। কিন্তু বাস্তবে কিছুই হয়নি। বরং প্রভাবশালীদের দাপট আরও বেড়ে গেছে।
ফুলকোচায় রিপন–সুজন এবং মেঘারবাড়িতে ফকির নামের ব্যক্তিদের নেতৃত্বে টপসয়েল লুটপাট চলছে প্রকাশ্যেই। কৃষকদের অভিযোগ—একদিকে জমির উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে, অন্যদিকে প্রতিবাদ করলেই হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
এক ক্ষুব্ধ কৃষক বলেন,“সংবাদ হইল, অভিযোগ দিলাম—তবু কেউ আসে নাই। মনে হয় এদের বিরুদ্ধে বলার কেউ নাই।”
মাটি পরিবহনের ভারে নতুন করে পাকাকৃত সড়কগুলো স্থানভেদে ফেটে যাচ্ছে। ধুলাবালুতে নাকাল সাধারণ মানুষ। স্কুলপড়ুয়া শিশুদের বই–খাতাও রক্ষা পাচ্ছে না।
স্কুলছাত্রী লামিয়া জানায়,
মাটির গাড়ি গেলে ধুলায় সব ঢেকে যায়। বই খাতা নোংরা হয়ে যায়—পড়তে বসতেও বিরক্ত লাগে।”
স্থানীয় বাসিন্দা রাজিব ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“রাস্তাটা পাকাকরণ করতে কত দৌড়ঝাঁপ করেছি। এখন এই ট্রলির চাপ আর বেপরোয়া চলাচলে নীরবতা রহস্যজনক
মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্কা জিন্নাতুল আরা জানান,খোঁজ খবর নিয়ে মাটি কাটার বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালানা করা হবে।
এ নিয়ে সচেতন মহলের প্রশ্ন—নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও টপসয়েল লুট চলবে, আর প্রশাসন চুপ করে দেখবে?
পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন—ফসলি জমির টপসয়েল একবার নষ্ট হলে পুনরুদ্ধারে ১০–১৫ বছর সময় লাগে। ইটভাটায় পোড়ানো হলে সেই জমি ভবিষ্যতে অনাবাদি হয়ে পড়তে পারে। জমির স্বাভাবিক গঠন নষ্ট হলে কৃষি উৎপাদন হুমকির মুখে পড়বে।




