মুক্তকাল ডেক্স:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সারাদেশে রাজনৈতিক উত্তেজনা আবারও সহিংসতার দিকে গড়িয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)-এর প্রকাশিত নভেম্বর মাসের পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক চিত্র।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এক মাসে দেশে ৯৬টি রাজনৈতিকসহ সহিংস ঘটনায় ১২ জন নিহত ও ৮৭৪ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১০ জনই বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে মারা গেছেন।
নির্বাচনী মাঠেও উত্তেজনা কম নয়—মনোনয়নকেন্দ্রিক বিভিন্ন সংঘর্ষ, হামলা ও অগ্নিসংযোগে ২ জন নিহত এবং ২৬২ জন আহত হয়েছেন।
এইচআরএসএস জানায়—
মোট ৯৬টি রাজনৈতিক সহিংসতার মধ্যে ৩৩টিই বিএনপির অন্তর্কোন্দল, আহত ৪৭৯ জন, নিহত ১০।
বিএনপি–আওয়ামী লীগ সংঘর্ষ: ৯টি ঘটনায় আহত ৫২ জন।
বিএনপি–জামায়াত সংঘর্ষ- ৬টি ঘটনায় আহত ৪১ জন।
বিএনপি–অন্যান্য দল সংঘর্ষ- ১৫টি ঘটনায় আহত ১৫৫ জন।
বিভিন্ন দলের মধ্যে ২০টি ঘটনায় আহত ৯১ জন, নিহত ১ জন।
মোট নিহত ১২ জনের মধ্যে বিএনপির ১১ জন, আর জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) একজন।
নভেম্বরে ২৩টি ঘটনায় ৩৬ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন।
আহত ২২,হুমকি ১১,গ্রেপ্তার ১,হয়রানিমূলক দুই মামলায় অভিযুক্ত ২ সাংবাদিক।
এছাড়া সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ–২০২৫-এর অধীনে ৭টি মামলায় ২৭ জনকে অভিযুক্ত এবং ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে দেখা যায়-গণপিটুনিতে নিহত ১৬, আহত ১১,আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে মৃত্যু ২, কারাগারে মৃত্যু- ৩ জন সাজাপ্রাপ্ত, ৯ জন হত্যা।
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আইনে ৩৮টি মামলা হয়েছে।
এসব মামলায়—নাম উল্লেখ- ১১৬৬ জন, অজ্ঞাতনামা আসামি- ২৩০১ জন, রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার- ১৯৯৩ জন
এর মধ্যে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ১৭১৪ জন, আর বিএনপির ৩৬ জন।
এ ছাড়া যৌথবাহিনীর বিশেষ অভিযানে ৬ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই আওয়ামী লীগ–ঘনিষ্ঠ সংগঠনের কর্মী।
নভেম্বর মাসে নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের ঘটনা ছিল উদ্বেগজনক—
মোট নির্যাতিত- ১৭৭ জন,ধর্ষণের শিকার- ৪৮ (শিশু ২৫),সংঘবদ্ধ ধর্ষণ- ১৩ জন,ধর্ষণের পর হত্যা: ২ জন,যৌন নিপীড়ন-৩৬ (শিশু ১১),যৌতুকজনিত মৃত্যু-৩,
পারিবারিক সহিংসতায় মৃত্যু ২৯, আহত ৩২, আত্মহত্যা ২৪।
মোট ভুক্তভোগী ১০৩ জন,নিহত ২০জন,শারীরিক ও মানসিক নির্যাতিত ৮৩ জন।
২৫টি ঘটনায় ৪ শ্রমিক নিহত এবং ৭৬ জন আহত হয়েছেন।
অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও নিরাপত্তা সরঞ্জামের অভাবে কর্মস্থলে ১৪ জন শ্রমিক মারা গেছেন।
ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফের হামলায় নিহত ১, আহত ৪
বাংলাদেশ–মিয়ানমার জলসীমা থেকে আরাকান আর্মির হাতে ৪টি ট্রলারসহ ২৬ জেলে আটক
সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, হেফাজতে মৃত্যু, রাজনৈতিক অস্থিরতা, নির্বাচনী সহিংসতা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ—এসব বিষয় অবিলম্বে সমাধান না হলে মানবাধিকার পরিস্থিতি আরও নাজুক হতে পারে।
তিনি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালীকরণ এবং মানবাধিকার রক্ষায় রাষ্ট্র–সমাজের সমন্বিত পদক্ষেপের আহ্বান জানান। পাশাপাশি রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, সাংবাদিক ও মানবাধিকার সংগঠনের সাথে গঠনমূলক সংলাপের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।




