বিশেষ প্রতিনিধি,মুক্তকাল:
জামালপুরের মেলান্দহ পৌরসভার সুইপার কলোনি দীর্ঘদিন ধরে মদ ও গাঁজার অবাধ কেনাবেচার কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, হাত বাড়ালেই মিলছে মদ ও গাঁজা—এমন পরিস্থিতিতে পুরো কলোনি এখন ‘ক্রাইম জোনে’ রূপ নিয়েছে। সন্ধ্যা নামার পর এলাকা ভুতুড়ে পরিবেশ ধারণ করে, যা নিয়ে উদ্বেগে আছেন সাধারণ মানুষ।
এলাকাবাসীর দাবি, মাদক বিক্রি ও সেবনকারীদের কারণে যুবসমাজ বিপথগামী হচ্ছে এবং ছোট-বড় নানা অপরাধের প্রবণতা বাড়ছে। নেশার অর্থ জোগাতে অনেকেই চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে বলেও অভিযোগ তাঁদের।
বাজারে আসা ক্রেতা সুজন বলেন, “মেলান্দহ বাজারে একটি চৌকি কিনতে এসেছিলাম। কিন্তু চারপাশে এমন তীব্র মদের গন্ধে কেনাকাটাই করতে পারলাম না।”
নাগের পাড়ার এক বাসিন্দা মোহাম্মদ ইমরুল সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিযোগ করে লিখেছেন, “থানা থেকে মাত্র ৪০০ মিটার দূরে চান মাস্টার মিজান ও তার ‘বইমোড়’ এলাকায় প্রকাশ্যেই ইয়াবা, হেরোইন বিক্রি হয়। পুলিশ কি জানে না, নাকি না জানার ভান করে?”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মেলান্দহ বাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন, “সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে ১২-১৫ বছরের কিশোররাও মদ-গাঁজায় আসক্ত হয়ে পড়ে। কেউ সিগারেটের ভেতর, কেউ আবার কলকের মাধ্যমে প্রকাশ্যেই মাদক সেবন করছে—এ দৃশ্য এখন নিয়মিত।”
এ বিষয়ে মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওবায়দুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন,
“আমি নতুন যোগদান করেছি। বিষয়টি অফিসারদের সঙ্গে আলোচনা করব। মাদকের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি মেনে কাজ করি। মাদকসংশ্লিষ্ট যেই হোক না কেন, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। মাদককারবারি, সেবনকারী ও মাদকাসক্তদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলবে।”




