Skip to content
প্রকাশ- November 2, 2026 , 23:07 pm
অন্যান্য

১১ দলীয় জোটের পথে জামায়াত: প্রার্থী চূড়ান্ত!

১১ দলীয় জোটের পথে জামায়াত: প্রার্থী চূড়ান্ত!

Oplus_131072

মুক্তকাল নিউজ:

জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা দলগুলো প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে আসন সমঝোতার আলোচনায়। যোগ্যতা, জনপ্রিয়তা ও সম্ভাবনার ভিত্তিতে কোন দল কোন আসনে প্রার্থী দেবে—এ বিষয়ে হিসাব–নিকাশও শেষ পর্যায়ে। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি মাসের শেষ বা আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে জোট এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে পারে।

Advertisement

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ জানান, তফসিল ঘোষণার আগেই সমঝোতা চূড়ান্ত করার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, ‘প্রার্থী তালিকা আমরা আগেই দিয়েছি। এখন অন্যান্য দলের সঙ্গে সমন্বয় করতে হওয়ায় কিছু আলোচনার বিষয় রয়ে গেছে।’

বর্তমানে জামায়াতসহ আটটি সমমনা দল যুগপৎ আন্দোলন কর্মসূচিতে রয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দল। অন্যান্য দলগুলো হলো—ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, নেজামে ইসলাম পার্টি, জাগপা এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি। আলোচনার মাধ্যমে এ জোটে আরও দুই–তিনটি দল যুক্ত হতে পারে। ফলে আসন সমঝোতা ১০ বা ১১ দলের মধ্যে হতে পারে।

ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই তফসিল ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগেই প্রতিটি আসনের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করতে চায় এই জোট। জনপ্রিয়তা, নেতৃত্বের দক্ষতা ও নির্বাচনে জয়ের সম্ভাবনা—এই তিন মানদণ্ডে প্রার্থী বাছাই করা হবে বলে জানিয়েছেন জোটের নেতারা।

ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন বলেন, ‘কোন দলের প্রার্থী কোন এলাকায় শক্ত অবস্থানে আছেন—এসব বিষয়ে আলোচনা ও জরিপ চলছে। লক্ষ্য হলো জোটের সর্বোচ্চসংখ্যক প্রার্থীকে বিজয়ী করা।’

জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধান জানান, প্রতিটি দলের সর্বোচ্চ ফোরামে প্রার্থী তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। পরে সব তালিকা একত্র করে চূড়ান্ত করা হবে। তিনি বলেন, ‘চূড়ান্ত ঘোষণার আগেই আট দলের জোট ১০ বা ১১ দলে পরিণত হতে পারে।’

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদও জানান, আরও কিছু দল যোগাযোগ করছে এবং তাদেরও জোটে শরিক করা হতে পারে। তবে কোন দল কত আসনে প্রার্থী দেবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

জামায়াত আগে সম্ভাব্য ৩০০ প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করলেও পরে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব জানায়, সেটি চূড়ান্ত নয়। শরিকদের জন্য ১০০ আসন ছাড়ের বিষয়ে সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের বক্তব্যকে দলটি এখন ‘ব্যক্তিগত’ মতামত বলছে।

জোটের মধ্যে আসন নিয়ে দরাদরি চলছে—তবে নেতারা জানাচ্ছেন, সমঝোতার খাতিরে সর্বোচ্চ ছাড় দিতে তারা প্রস্তুত। জাগপার রাশেদ প্রধান বলেন, ‘একক নির্বাচন করলে আমরা ১০ আসনে প্রার্থী দিতাম। কিন্তু জোটের স্বার্থে ছাড় দিতে প্রস্তুত। আমরা চারটি আসন চাইব বলে আশা করছি।’

বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির মহাসচিব কাজী নিজামুল হক নাঈম জানান, তাদের দলের তিন থেকে চারটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে জানা গেছে, জাতীয় নির্বাচনেই নয়—স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রেও এই সমঝোতা বজায় রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন বলেন, ‘এই সমন্বয় শুধু জাতীয় নির্বাচনেই নয়, উপজেলা ও ইউনিয়ন নির্বাচন পর্যন্ত বজায় থাকবে। যেখানে এক দল এমপি পাবে, সেখানে অন্য দল উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী দেবে—এমন কাঠামোতে এগোনোর চিন্তা আছে।’

Advertisement