বকশীগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি :
আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ–বকশীগঞ্জ) আসনে নতুন চমক নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার ঝড় তুলেছেন চারবারের সফল উপজেলা চেয়ারম্যান ও বকশীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুর রউফ তালুকদার। জনপ্রতিনিধি হিসেবে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সুনাম ও গণমানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতার উপর ভর করে তিনি এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লড়াইয়ের ঘোষণা দিলেন।
শনিবার (১৯ নভেম্বর) সন্ধ্যায় বকশীগঞ্জ উপজেলা সদরের এক বিশাল সমাবেশে হাজারো সমর্থকের উচ্ছ্বাস, ঢাক-ঢোল ও শ্লোগানের মধ্য দিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন। তার এই ঘোষণায় পুরো এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
জানা যায়, বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন তিনি। সাবেক আইজিপি ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল কাইয়ুমের পক্ষে মনোনয়ন চাইলেও দল থেকে জামালপুর-১ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয় সাবেক এমপি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কোষাধ্যক্ষ এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতকে। এরপরেই ক্ষোভ ও জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন আব্দুর রউফ তালুকদার।
ঘোষণার সময় আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন—
“জনগণ আমাকে চারবার ভোট দিয়ে উপজেলা পরিষদের দায়িত্ব দিয়েছে। উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সেবামুখী প্রতিটি কাজে আমি ছিলাম জনগণের পাশে। এবারও এলাকার প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দলীয় প্রতীকের বাইরে থেকেও জনগণের ভালোবাসাই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি।”
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তার স্বতন্ত্র প্রার্থিতা জামালপুর-১ আসনের নির্বাচনী লড়াইকে আরও তীব্র ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলবে। দীর্ঘদিনের জনসম্পৃক্ততা, উন্নয়ন এবং ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার কারণে তিনি ভোটের মাঠে অন্যান্য প্রার্থীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারেন।
সমাবেশে অংশ নেওয়া বিভিন্ন ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ বলেন,
“তিনি দলের লোক চিনেন না—মানুষকে চিনেন। কাজ করেন মানুষের জন্য, তাই আমরা তার পাশে আছি।”
সমর্থকরা দাবি করেন, তার নেতৃত্বে এলাকায় শিক্ষা, সড়ক যোগাযোগ ও স্বাস্থ্যসেবার উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়েছে।
এদিকে দলীয় প্রার্থীর শিবিরে তার স্বতন্ত্র প্রার্থিতা নিয়ে শুরু হয়েছে নানান আলোচনা ও বিশ্লেষণ। রাজনৈতিক মহলে অনেকে বলছেন, তার অংশগ্রহণ এই আসনের প্রচলিত ভোটের সমীকরণ বদলে দিতে পারে।
ঘোষণার পর রাতেই আনন্দ মিছিল বের করে সমর্থকরা। প্রার্থীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খুব শিগগিরই তারা ইশতেহার প্রকাশ, তৃণমূল গণসংযোগ এবং ব্যাপক প্রচারণা কার্যক্রম শুরু করবেন।




