গল্পটির সূত্রপাত হয় ১০ বছর আগে।
দীর্ঘ এক যুগের বেশী সময় ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিংগাপুরে (NUS) পিএইচডি-পোস্টডক শেষে দেশে ফিরে (২০১২) কাজ শুরু করি ক্যান্সার জনস্বাস্থ্য নিয়ে। মলিকিউলার বায়োলজিতে ট্রেইনিং সত্ত্বেও দেশের প্রেক্ষাপটে পাবলিক হেলথ ছাড়া ভালো মানের ইম্পেক্টফুল কাজ করার স্কোপ ছিলো না। ক্যান্সার নিয়ে কাজ করতে গিয়ে অনুধাবন করলাম এই বিষয় নিয়ে আসলে বেশী কিছু করার সুযোগ নেই। তখন মনে হতো মৃত্যু পথযাত্রী ক্যান্সার রোগীদের মিনিংফুল কিছু একটা করা দরকার।
তখন থেকেই মূলত প্যালিয়েটিভ কেয়ার (Palliative care) বিষয় নিয়ে ঘাটাঘাটি করতাম। ইন্ডিয়ার কেরালায় কমিউনিটি বেইজড ক্যান্সার প্যালিয়েটিভ কেয়ার নামে একটা উদ্যোগ রয়েছে যেটা বাংলাদেশেও করা সম্ভব। কোন কিছু নিয়ে কাজ করার আগে বিষয়টা সবার আগে রিভিউ পেপার তৈরী করার চিন্তা মাথায় আসে। নিজে লিড দিয়ে এটা করার সময় ছিলো না।
২০১৯ সালের দিকে আমার এক শিক্ষার্থী যোগাযোগ করে সে রিসার্চে জড়িত হতে চায়। তখন ওকে বললাম, তুমি কমিউনিটি বেইজড প্যালিয়েটিভ কেয়ার নিয়ে একটা রিভিউ পেপার তৈরীর কাজে জড়িত হতে পারো। এতদিন যা জানতাম তা সেই ছাত্রীকে শেয়ার করি। সেও প্যালিয়েটিভ কেয়ার নামক শব্দটি আমার কাছে প্রথম শুনে। কিছুদিন পর শিক্ষার্থীটি জানালো, ‘স্যার আমি প্যালিয়েটিভ কেয়ার প্রজেক্ট কেয়ার রিলেটেড একটি জবের অফার পেয়েছি”। এরপর আর সেই কাজটি আগালো না। কিন্তু সেই চিন্তা মাথায় ছিলো।
প্যালিয়েটিভ কেয়ার ফিল্ড নিয়ে ধারনা নিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ক্যান্সার রোগীদের প্যালিয়েটিভ ওয়ার্ড, আশিক ফাউন্ডেশন ভিজিট করি, তারা আসলে কি করে তা নিয়ে জানার চেষ্টা করি।
২০২২ সালে এই ফিল্ডের একজন অভিজ্ঞ ক্যানাডিয়ান গবেষকের সাথে পরিচিত হয় আমার সেই ছাত্রীটির মাধ্যমে। ও জুম মিটিং সেট করে। কমিউনিটি বেইজড প্যালিয়েটিভ কেয়ার আইডিয়ার কথা শুনে ক্যানাডিয়ান গবেষক খুবই প্রশংসা করেন। বললেন, তুমি যদি এটা করতে পারো তবে দারুণ কাজ হবে।
তিনি বাংলাদেশে এই বিষয়ে কয়েক বছর কাজ করেছেন। ক্যানাডিয়ান গবেষক যেহেতু বাংলাদেশ সম্পর্কে বেশ ভালো জানেন, তাই উনার উৎসাহ পেয়ে Community based palliative care নিয়ে কাজ শুরু করি নিড এসেসমেন্ট প্রজেক্ট দিয়ে। উদ্দেশ্য হচ্ছে, প্রত্যন্ত অঞ্চলের মৃত্যু পথযাত্রীদের আসলে কোন বিষয়গুলো বেশী প্রয়োজন। এটা জানা থাকলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া যাবে। কিন্তু লোকবলের অভাবে সেই গবেষণা প্রজেক্টটি শুরু করতে পারিনি।
অবশেষে ৫ আগস্ট ২০২৪ এর পর জামালপুরের একজন একজন তরুণ এনার্জেটিক মুফতি (জুবায়ের) আমার সাথে কমিউনিটি ভিত্তিক গবেষণায়/কাজে জড়িত হতে যোগাযোগ করে ফেসবুকে ইনবক্স করে।
জামালপুর গিয়ে ওর সাথে কথা বলার পর মনে হলো জুবায়ের কমিউনিটি ভিত্তিক কাজে ভালো সাপোর্ট দিতে পারবে। মুফতি জুবায়ের টিম তৈরী করে কয়েকমাস ব্যাপী খেটে নীড এসেসমেন্ট স্টাডির ডেটা তৈরীর শেষ করে। ৩৬,০০০ হাজার মানুষ নিয়ে একটি কমিউনিটিতে এই পাইলটিং রিসার্চের কাজ হয়। বর্তমানে আমরা রিসার্চ পেপার তৈরী করছি । আশা করি ভালো জার্নালে প্রকাশিত হবে, ইনশাআল্লাহ।
২০২৫ সালে নীড এসেসমেন্ট করার পর জানা গেল প্রায় ৪৫ জনের মতো হুইল চেয়ার এবং টয়লেট চেয়ার হলে সুবিধা হতো। প্রায়োরিটি বেসিসে কার কার লাগবে তা নিয়ে মুফতি জুবায়েরের টিম সরেজমিনে যোগাযোগ করে জানতে পারে কিছু দিনের ব্যাবধানে ৫ জন রোগী কবরবাসী হয়ে গেছেন।
এক গল্পের পিছনে অনেক ঘটনা, পরিশ্রম অজানা থেকে যায়।




