Skip to content
প্রকাশ- November 2, 2026 , 15:31 pm
মাদারগঞ্জ

শ্রমিকের বদলে ভেকু, কর্মসৃজন প্রকল্পে ফেরত ১ কোটি ২১ লাখ টাকা

শ্রমিকের বদলে ভেকু, কর্মসৃজন প্রকল্পে ফেরত ১ কোটি ২১ লাখ টাকা

আব্দুর রহিম খান, মাদারগঞ্জ প্রতিনিধি:

দরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্য নিয়ে বাস্তবায়িত কর্মসৃজন কর্মসূচির দুটি খাল খনন প্রকল্পে শ্রমিকের পরিবর্তে ভেকু (এক্সক্যাভেটর) মেশিন ব্যবহার করা হয়েছে। শ্রমিক সংকটের কারণে শ্রমিক মজুরি খাতে বরাদ্দ থাকা ১ কোটি ২১ লাখ ৫৭ হাজার ৮৬৪ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিতে হয়েছে।

Advertisement

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস (পিআইও) সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কর্মসৃজন কর্মসূচির আওতায় আদারভিটা ইউনিয়নের পশ্চিম পলিশা থেকে দুধিয়াগাছা পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার এবং চরপাকেরদহ ইউনিয়নের কোয়ালিকান্দি থেকে তেঘরিয়া ও হিদাগাড়ী গুচ্ছগ্রাম থেকে হিদাগাড়ী আক্তার বাড়ি পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৪ কিলোমিটার খাল খননের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।

পশ্চিম পলিশা-দুধিয়াগাছা খাল খননে মোট বরাদ্দ ছিল ১ কোটি ২৭ লাখ ৪৪ হাজার ৭১০ টাকা এবং তেঘরিয়া খাল খননে ১ কোটি ১৫ লাখ ৯ হাজার ৮৩০ টাকা। প্রকল্প দুটির উদ্বোধন করেন তৎকালীন বেসামরিক বিমান চলাচল প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত ও জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল। উদ্বোধনের সময় প্রতীকীভাবে শ্রমিক দিয়ে কাজের সূচনা করা হলেও পরে শ্রমিক সংকট দেখা দেয়।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) তাজ উদ্দিন জানান, কর্মসৃজন কর্মসূচিতে দৈনিক মজুরি নির্ধারণ ছিল ৫০০ টাকা। কিন্তু একই সময়ে ধান কাটার মৌসুমে শ্রমিকরা অন্যত্র এক হাজার থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত মজুরি পাওয়ায় নির্ধারিত মজুরিতে কাউকে পাওয়া যায়নি। ফলে শ্রমিকের তালিকা ও মাস্টার রোল প্রস্তুত করা সম্ভব হয়নি।

তিনি আরও জানান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নন-ওয়েজ খাতের অর্থ ব্যবহার করে ভেকু মেশিনের মাধ্যমে খননকাজ পরিচালনা করা হয়। এতে পশ্চিম পলিশা-দুধিয়াগাছা খালের প্রায় ৭৮ শতাংশ এবং তেঘরিয়া খালের প্রায় ৭৯ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পশ্চিম পলিশা-দুধিয়াগাছা প্রকল্পে শ্রমিক মজুরি খাতে বরাদ্দ ছিল ৬৩ লাখ ৯৮ হাজার ৬৪৯ টাকা এবং তেঘরিয়া প্রকল্পে ৫৭ লাখ ৫৯ হাজার ২১৫ টাকা। শ্রমিক নিয়োগ সম্ভব না হওয়ায় মোট ১ কোটি ২১ লাখ ৫৭ হাজার ৮৬৪ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। গত ২৮ জুন ও ৬ জুলাই এ অর্থ ফেরতের চালান জমা দেওয়া হয়।

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, কর্মসৃজন কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ছিল দরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা। কিন্তু শ্রমিক নিয়োগের পরিবর্তে যন্ত্র ব্যবহার করায় সেই উদ্দেশ্য পূরণ হয়নি। তাদের মতে, বাস্তবসম্মত মজুরি নির্ধারণ করা হলে শ্রমিক সংকট সৃষ্টি হতো না এবং দরিদ্র মানুষও কাজের সুযোগ পেতেন।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তাজ উদ্দিন বলেন, “নির্ধারিত মজুরিতে শ্রমিক পাওয়া না যাওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভেকু মেশিন ব্যবহার করা হয়েছে। শ্রমিক খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ নিয়ম অনুযায়ী সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।”

সংশ্লিষ্টদের মতে, ভবিষ্যতে কর্মসৃজন কর্মসূচির প্রকল্প বাস্তবায়নে বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মজুরি নির্ধারণ এবং বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হবে।

Advertisement