স্টার্ফ রিপোর্টার ||
জামালপুরের মাদারগঞ্জের ১ নং চরপাকেরদহ ইউনিয়নের গোদাশিমুলিয়া গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে মোখলেছের বিরুদ্ধে তারই সমিতির পার্টনার মমিনুর রহমানকে মামলায় জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, বর্তমানে এনসিপিতে সক্রিয় এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগ চরপাকেরদহ ইউনিয়ন শাখার সহ-সম্পাদক মোখলেছ সবুজ কুড়িঁ কৃষি উন্নয়ন সমবায় সমিতির পরিচালক মমিনুর রহমানের বিরুদ্ধে চেক ডিজঅনার মামলা করেন।
সেই মামলায় গত ২৮ আগস্ট বিকালে গুনারীতলা ইউনিয়নের গোপালপুর বাজার থেকে মমিনুর রহমানকে গ্রেফতার করে মাদারগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) দুপুর ২ টার দিকে মমিনুর রহমানকে জামালপুর কোর্টে পাঠানো হলে সেদিনই স্পেশাল বেঞ্চে তার জামিনের আবেদন করলে জামিন মঞ্জুর করে আদালত।
আসামি পক্ষের আইনজীবী হিসেবে মামলাটি পরিচালনা করেন এড. আব্দুল্লাহ আল মতি।
জামিনে মুক্ত হওয়া মমিনুর রহমানের কাছে মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে গণমাধ্যমকে বলেন, চারজন পরিচালকের সমন্বয়ে সবুজ কুড়িঁ কৃষি উন্নয়ন সমবায় সমিতির নামে প্রতিষ্ঠিত যৌথ কারবারি প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হয়ে আসছিল।
পরিচালকগণের মধ্যে গ্রাহকদের থেকে নেওয়া টাকার পরিমাণ মমিনুর রহমান(গোপালপুর) এর ৯৮ লাখ, মোখলেছ (গোদাশিমুলিয়া) এর ১৫ লাখ ৮০ হাজার, রাজু মিয়া(চরগোপালপুর)এর ২৩ লাখ ৭ হাজার এবং ফরিদ হোসেন (বাগলের গড়,মিলন বাজার) এর ১৩ লাখ ৬৭ হাজার। মাদারগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন সমবায় সমিতির বিরুদ্ধে গ্রাহকদের অসন্তুষ্টি চরমে উঠলে অন্যান্য সমবায় সমিতির মত সবুজ কুড়িঁ কৃষি উন্নয়ন সমবায় সমিতির সকল কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। ফলে নিজ নিজ গ্রাহকদের আনুপাতিক প্রাপ্য বুঝিয়ে দেওয়ার স্বার্থে গ্রাহকদের টাকায় ক্রয়কৃত জমির ৫১ শতাংশ মমিনুর রহমান, ৬.৫৩ শতাংশ মোখলেছ, ৮.৭৫ শতাংশ রাজু মিয়া এবং ৪.৫ শতাংশ ফরিদ মিয়ার নামে বন্টন করে নেয়।
শর্ত থাকে যে,পরিচালকগণ নিজেদের প্রচেষ্টায় বন্টনকৃত জমি বিক্রি করে নিজ নিজ গ্রাহকের টাকা পরিশোধ করবো। কিন্তু তিনজন পরিচালক সিদ্ধান্ত অনুসারে পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও মোখলেছ তা মানতে অস্বীকৃতি জানায় এবং তার গ্রাহকের অংশের নগদ টাকা না দিলে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।
বিবাদী মমিনুর রহমান আরও বলেন, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই সকাল আনুমানিক ১০ থেকে ১১ টার মধ্য সবুজ কুড়িঁ কৃষি উন্নয়ন সমবায় সমিতির পরিচালক মোখলেছসহ আরও কয়েকজন আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আসে এবং তার গ্রাহকদের অংশের ১৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা দাবি করেন। আমি অপারগতা প্রকাশ করে জমি বন্টনের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে অনুরোধ করলে মোখলেছসহ তার সাথে আসা কয়েকজন জোর পূর্বক আমার ক্যাশে থাকা যমুনা ব্যাংক (হিসাব নং-১৫৫-০৩১০০০০৯১৮,পাতা নং-৭১৭২২৪৪) মাদারগঞ্জ শাখার ব্ল্যাংক চেকে এবং তাদের সাথে নিয়ে আসা ষ্ট্যাম্পে জোর পূর্বক স্বাক্ষর গ্রহন করে এবং তা ভিডিও ধারণ করে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে।
উপায়ান্ত না পেয়ে আমি ২০২৪ সালের ২৫ জুলাই মাদারগঞ্জ মডেল থানায় গিয়ে চেক হারিয়েছে মর্মে সাধারণ ডায়েরি করি যা মাদারগঞ্জ মডেল থানার জিডি নং-৭৩৪।
মমিনুর রহমান আরও বলেন, ‘‘উক্ত জিডির কপি ব্যাংকে জমা দিতে হবে মর্মে বিষয়টি জ্ঞাত না থাকার সুযোগ নিয়ে ২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি যমুনা ব্যাংক, মাদারগঞ্জ শাখা থেকে চেক ডিজঅনার করেন এবং ৯ ফেব্রুয়ারি আমাকে আইনি নোটিশ পাঠায়।’’
মমিন আরও জানান, ‘‘১৯ মার্চ মামলা হলে সম্মানের কথা চিন্তা করে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অনুরোধ করি বিষয়টি মীমাংসা করার জন্য। গত জুন মাসে জামালপুর শহরস্থ এক বাসায় বিষয়টা সুরাহার জন্য উভয় পক্ষ বসলে শালিশদারগণ আমাদের উভয় পক্ষের আলোচনা শুনেন। উভয়ের যুক্তিতর্ক শুনে মোট ১৫ লাখ টাকার মধ্যে ১০ লাখ টাকার জমি কওলা এবং অবশিষ্ট টাকা থেকে প্রতি মাসে পাঁচহাজার টাকা হারে কিস্তিতে পরিশোধের মৌাখিক সিদ্ধান্ত দিয়ে দেন এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বন্ধ করে মামলা তুলে নেওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু তাদের সিদ্ধান্ত অমান্য করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার মাধ্যমে আমাকে গ্রেপ্তার করান। শুক্রবার নিয়মিত কোর্ট না চলায় স্পেশাল বেঞ্চে আমার আইনজীবী জামিনের আবেদন করলে জামিন মঞ্জুর করেন।’’
জোর করে চেকে ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার বাদী মোখলেছ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘‘ জোর করে স্বাক্ষর নেয়নি বরং মমিন স্বেচ্ছায় দিয়েছেন।’’
তার মোট দাবিকৃত টাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ব্যবসায়িক পার্টনার হিসেবে আমি ব্যক্তিগতভাবে ১২ লাখ টাকা এবং আত্বীয়স্বজনদের থেকে ১৮ লাখসহ মোট ৩০ লাখ টাকা দিয়েছি।
তিনি বলেন, ‘‘আমি কোন পার্টনার ছিলাম না।’’ তাদের সমিতিতে চাকরি করেছি।
সালিশি সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি সালিশ হয়েছে মর্মে তথ্য স্বীকার করেন এবং ১০ লাখ টাকার জমি কওলা ও কিছু গ্রাহকদের নগদ টাকাসহ প্রতি মাসে ৫০০০ হাজার টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল বলে জানান।
তবে তার নিকট বিবাদীর স্বাক্ষর নেওয়া স্ট্যাম্প আছে বলে জানান
কত টাকা নিয়ে আপোষ হতে চান জানতে চাইলে তিনি বলেন, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ বসে যে সিদ্ধান্ত দেবেন সে তা মেনে নেবে।
শালিসী বৈঠকের সদস্য মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এর কাছে বিরোধের কারন ও বৈঠকের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বে টাকা আদায়ের কৌশল হিসেবে বাদী চেক ডিজঅনার মামলাটি করেছেন। তিনি বলেন,আমরা শালিসে বিষয়টি মীমাংসা করে দিয়েছিলাম। সিদ্ধান্ত মোতাবেক বিবাদী মমিনুর রহমান, বাদী মোখলেছকে ১০ লাখ টাকার জমি কওলা ও প্রতি মাসে ৫০০০ টাকা হারে অবশিষ্ট ৫ লাখ টাকা দেওয়ার কথা। বাদীর দাবিকৃত ৩০ লাখ টাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ৩০ লাখ টাকার দাবির বিষয়টি ভূয়া, ব্ল্যাংক চেকে ইচ্ছামত ৩০ লাখ বসিয়ে তিনি মামলাটি করেছেন।
জিন্নাহ আরও বলেন, ‘‘সমিতির পরিচালক ছিলেন মোট ৪ জন বিধায় লোকসানের ভার সকলকে সমান নিতে হবে। মীমাংসিত বিষয়টি এতোদূর আসার কথা ছিল না। ২৮ আগষ্ট (বৃহস্পতিবার) বিবাদী গ্রেফতার হওয়ার পর থানা হেফাজতে থাকাকালীন উভয় পক্ষের সাথে যোগাযোগ করি এবং বাদী পক্ষকে(মোখলেছ), বিবাদী পক্ষের সামর্থ অনুযায়ী নগদ ৫০ হাজার টাকা এবং সেনিদই ১০ লাখ টাকার জমি লেখে দেওয়ার প্রস্তাব করলে বাদী পক্ষ পরের দিন (শুক্রবার) তা প্রত্যাখান করে আদালতের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান চান মর্মে জানান।’’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: সাইফুল্লাহ সাইফ গণমাধ্যমকে জানান, চেক ডিজঅনার মামলায় মমিনুর রহমানের বিরোদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় তাকে বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার করা হয়।
পরবর্তীতে শুক্রবার দুপুরে মমিনুর রহমানকে আদালতে পাঠানো হলে স্পেশাল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।




