বকসীগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি||
জামালপুরের বকশীগঞ্জের বাট্টাজোড় ইউনিয়নের জিন্নাহ বাজারে অবস্থিত ব্রাইট স্কুলকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছে দুই শিক্ষা প্রধান শিক্ষকের মধ্যে। এ ঘটনার জেরে উপজেলা প্রশাসন থেকে প্রতিষ্ঠানটির একাডেমিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, ব্রাইট স্কুলের পরিচালক ইসমাইল হোসেন সিরাজী ও পাশ্ববর্তী বাট্টাজোড় নগর মামুদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মামুনুর রশিদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হয়। একে অপরের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ আনতে থাকেন তারা।
এরই ধারাবাহিকতায় কিছুদিন আগে ব্রাইট স্কুলের পরিচালক ইসমাইল হোসেন সিরাজী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাসুদ রানার বরাবর প্রধান শিক্ষক মামুনুর রশিদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
ইউএনও’র তদন্তে অভিযোগটি প্রাথমিকভাবে অসত্য প্রমাণিত হলে, বরং ব্রাইট স্কুলের বিরুদ্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাডেমিক নীতিমালা ভঙ্গ করে প্রতিষ্ঠান স্থাপনের অভিযোগ উঠে আসে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ব্রাইট স্কুলের একাডেমিক কার্যক্রম প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের জন্য ন্যূনতম ২ কিলোমিটার দূরত্ব বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। কিন্তু ব্রাইট স্কুল ও নগর মামুদ উচ্চ বিদ্যালয়ের মধ্যে দূরত্ব মাত্র ১৫০ গজ, যা স্পষ্টতই নীতিমালাবিরোধী।
এ বিষয়ে ব্রাইট স্কুলের পরিচালক ইসমাইল হোসেন সিরাজী জানান, আমার প্রতিষ্ঠানটি ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে সুনামের সাথে পরিচালিত হয়ে আসছে। বর্তমানে এখানে ৫০০’রও বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। বছরের শেষ সময়ে হঠাৎ করে স্কুল বন্ধ হয়ে গেলে এসব শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। আমাদের স্কুলগুলো মূলত কিন্ডারগার্টেন ভিত্তিক, সরকারি বা বেসরকারি স্কুলের আওতাভুক্ত নয়। বকশীগঞ্জে আরও অনেক স্কুল একইভাবে পরিচালিত হচ্ছে। ব্যক্তিগত আক্রোশের কারণে এতগুলো শিক্ষার্থীর জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা উচিত নয়। এর স্থায়ী সমাধান চাই।
অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী শ্রাবনী আক্তার দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা এখানে অনেক ভালোভাবে পড়াশোনা করছি। স্কুল বন্ধের খবর শুনে আমরা মর্মাহত।”
দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সোহাগও একই শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের পরীক্ষা সামনে, এখন স্কুল বন্ধ হয়ে গেলে আমরা বিপদে পড়ে যাব।”
সহকারী শিক্ষক আফরিন খানম লিসা বলেন,
“বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই মানসম্পন্ন শিক্ষা দিয়ে আসছে। আমাদের অনেক শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করেছে। ২০২৪ সালে ৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে, আর ২০২৫ সালে একজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। এসব কৃতিত্বই প্রমাণ করে আমাদের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান।”
অন্যদিকে, নগর মামুদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মামুনুর রশিদ বলেন, “প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে ব্রাইট স্কুল এখনো কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।”
স্থানীয় অভিভাবক ও সাধারণ মানুষ মনে করছেন, ব্যক্তিগত বিরোধের কারণে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। তাই তারা সমস্যাটির স্থায়ী ও গ্রহণযোগ্য সমাধান চান।




