সাজ্জাদ হোসাইন শাহিন-স্টাফ রিপোর্টার:
জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধূকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে। উপজেলার ২ নং কুলিয়া ইউনিয়নের তেঘরিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত হেলাল উদ্দিন মেলান্দহ পৌর এলাকার একটি আবাসিক মাদ্রাসার শিক্ষক।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চার বছর আগে কুলিয়া উত্তরপাড়া এলাকার জোবেদ আলীর মেয়ে আকলিমার সঙ্গে পারিবারিকভাবে হেলাল উদ্দিনের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় মেয়ের সুখের সংসারের কথা বিবেচনা করে একটি গাভী ও একটি বাছুর দেওয়া হয়। তবে বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই হেলাল উদ্দিন বিভিন্ন সময় যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতে থাকেন বলে অভিযোগ।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, গত শুক্রবার বিকেলে মাদ্রাসা থেকে বাড়ি ফিরে হেলাল উদ্দিন স্ত্রী আকলিমার কাছে দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন। একই সঙ্গে যৌতুক দিতে না পারলে তালাক দেওয়ার হুমকিও দেন।
গৃহবধূ আকলিমা বলেন, “বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময় যৌতুকের দাবিতে আমাকে নির্যাতন করা হতো। শুক্রবারও আমাকে মারধর করা হয়েছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে কামড় দেওয়া হয়েছে এবং কিল-ঘুষি মারা হয়েছে।”
আকলিমার বাবা জোবেদ আলী বলেন, “যৌতুকের জন্য আমাকে নোংরা ভাষায় গালিগালাজ করা হয়েছে।”
আকলিমার বড় বোনের স্বামী বলেন, “আমি ঘটক হিসেবে এই বিয়ে দিয়েছিলাম। বিয়ের পর থেকেই আমার শ্যালিকাকে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন করা হচ্ছে। শুক্রবারও তাকে মারধর করে আহত করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রতিবাদ করায় আমাকে মোবাইল ফোনে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক হেলাল উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “মারধরের ঘটনাটি মিথ্যা।
মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবায়দুর রহমান জানান, মেয়েটি এ বিষয়ে কোন লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




