Skip to content
প্রকাশ- November 2, 2026 , 21:01 pm
জামালপুর

মেলান্দহে জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সভা

মেলান্দহে জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সভা
স্টাফ রিপোর্টার:
নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা (জিবিভি) প্রতিরোধ এবং আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জামালপুরের মেলান্দহে এক সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বাংলাদেশ পুলিশ ও জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ)-এর যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়নাধীন PREVAIL (Prevention and Response to Violence Against Women through Improved Access to Justice and Services) প্রকল্পের আওতায় এ সভার আয়োজন করে মেলান্দহ থানা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মেলান্দহ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ওবায়দুর রহমান। তিনি স্বাগত বক্তব্যে নারী ও শিশু সুরক্ষায় পুলিশের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন এবং সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে জনসম্পৃক্ততার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মাদারগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান ভূঞা। তিনি বলেন, “জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা শুধু ব্যক্তি বা পরিবারের সমস্যা নয়, এটি একটি সামাজিক ব্যাধি। নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় প্রশাসন এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। PREVAIL প্রকল্প জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পুলিশি সেবার প্রতি জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিন্নাতুল আরা বলেন, “নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়, এটি সমাজের প্রতিটি মানুষের নৈতিক দায়িত্ব। পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত সচেতনতা এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতামুক্ত একটি নিরাপদ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।”
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন কুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ ফজলুর রহমান ঠান্ডা, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সুরুজ্জামান সুরুজ এবং মেলান্দহ থানার নারী ও শিশু হেল্প ডেস্কের দায়িত্বপ্রাপ্ত এসআই সাফিয়া আক্তার।
সভায় নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ, বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং, পারিবারিক সহিংসতা, সাইবার হয়রানি এবং জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি মাদক, জুয়া, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ও হত্যাসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বক্তারা বলেন, পুলিশের নারী হেল্প ডেস্ক নারীদের জন্য একটি নিরাপদ ও আস্থার স্থান হিসেবে কাজ করছে। নির্যাতন বা হয়রানির শিকার ব্যক্তিরা যেন নির্ভয়ে পুলিশের সহায়তা নিতে পারেন, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ইমাম, নারী নেত্রী, যুব প্রতিনিধি, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। সভা শেষে অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ সময় নারী হেল্প ডেস্কের সেবা গ্রহণের পদ্ধতি, অভিযোগ দাখিলের প্রক্রিয়া এবং আইনি সহায়তা পাওয়ার উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়।
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম নারী ও শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে এবং সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাকে আরও শক্তিশালী করবে
Advertisement