সাজ্জাদ হোসাইন শাহীন:
জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদপুর বাজারে
অসুস্থ গরু জবাইয়ের মাধ্যমে মাংস বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। রবিবার (১২অক্টোবর) সরেজমিনে গিয়ে অসুস্থ গরু জবাইয়ের সত্যতা পাওয়া যায়। এতে জনস্বাস্থ্যের মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি হলেও স্থানীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তারা নীরব ভূমিকা পালন করছেন বলে অভিযোগ করেছে সচেতন মহল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন কসাইখানায় অসুস্থ, জ্বরে আক্রান্ত কিংবা অপুষ্টিতে ভোগা গরু আনা হয়। এসব গরু চিকিৎসা না করেই জবাই করে মাংস বিক্রি করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে মৃতপ্রায় পশু রাতের অন্ধকারে জবাই করে সকালে বাজারে সরবরাহ করা হয়। প্রাণী সম্পদ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত পল্লী চিকিৎসক এনামুল হক তিনি নিয়মিত আসেন না।যেদিন আসেন সেদিন পশু পরীক্ষা-নিরিক্ষার পর সুস্থ সনদ বা মাংসে সিল দেননা।এ নিয়ে মাংস বিক্রেতাদের মধ্যেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।ফ্রিজে মাংস সংরক্ষণ করেও মাংস বিক্রি করে মাহমুদপুর বাজারের ব্যবসায়ীরা।সপ্তাহে মঙ্গলবার মাংস বিক্রির সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকলেও গরু জবাই করা হয়।
মাহমুদপুর বাজারের মাংস বিক্রেতা রাসেল রানা বলেন,ডাঃ এনামুল আসেনা।আমাদের কাছেই সিল রয়েছে। গরু জবাইয়ের পর আমরা নিজেরাই সিল দিয়ে মাংস বিক্রি করি।
এলাকার এক মাংস বিক্রেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,গরু অসুস্থ হলেও অনেক সময় কম দামে কিনে জবাই করা হয়। কর্মকর্তারা কখনো এসে দেখেন না।”
উপজেলা মাংস বিক্রেতা সমিতির সহ-সভাপতি ও মাহমুদপুর বাজারের মাংস বিক্রেতা উমর ফারুক বলেন,আমি অসুস্থ গরু জবাই করিনা।গোয়ালঘরে দেখেন কোন অসুস্থ গরু নেই।এ পর্যন্ত যত ডাক্তার এসেছে এর মধ্যে এনামুল ভালো।তিনি ২ দিন থেকে অসুস্থতার কারনে আসেনা।প্রতিতিন সকালে আসাও সম্ভবনা।আগের দিন দেখে যান কোন গরু জবাই করা হবে।সুস্থ থাকলে অনুমতি দিয়ে যান।তবে মাংসে নিয়মিত সিল দেননা বলে স্বীকার করেন উমর ফারুক।তিনিও দাবি করেন আশেপাশে কয়রেকটি স্থানে গরু জবাই হয়। অনেক সময় অসুস্থ গরু জবাই করার খবরও পাওয়া যায়। অসুস্থ গরু যেনো জবাই করতে না পারে সে ব্যাপারে প্রাণী সম্পদ বিভাগের নজরদারির দাবি করেন।
স্থানীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কমিটির সদস্যরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে কসাইখানায় কোনো পরিদর্শন হয়নি। অথচ আইন অনুযায়ী, প্রতিটি পশু জবাইয়ের আগে সরকারি ভেটেরিনারি সার্জনের সনদ বাধ্যতামূলক।
প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ সুকুমার চন্দ্র দাস কে অসুস্থ গরু জবাইয়ের বিষয়টি জানালে লোক পাঠানো হচ্ছে বলে ৩ ঘন্টা দেরি করেন।ভেটেরিনারি সার্জন ডাঃ খায়রুল ইসলাম আসার পথে মাংস ব্যবসায়ীদের সাথে যোগাযোগ করেন। ব্যবসায়ীরা তড়িঘড়ি করে মাংস বিক্রি করেন।ভেটেরিনারি সার্জন ডাঃ খায়রুল ইসলাম ঘটনাস্থলে এসে ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে অসঙ্গতি পেলেও কোন ব্যবস্থা না নিয়ে সর্তক করে চলে যান।ফলে অবশিষ্ট মাংসও বিক্রি করে ব্যবসায়ীরা। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয়রা।
প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাং সুকুমার চন্দ্র দাস এর কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন,আমরা নিয়মিত পরিদর্শন করি। তবে কোথাও অসুস্থ গরু জবাইয়ের বিষয় পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”




