সাজ্জাদ হোসাইন শাহীন||
জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় গৃহবধূ উশনিতার রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় সাড়ে ৭ লাখ টাকার বিনিময়ে ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার রাতে স্থানীয় প্রভাবশালী কয়েকজন মাতব্বরের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ পাওয়া যায়।
নিহত উশনিতা (২০) মাদারগঞ্জ উপজেলার গুনারীতলা ইউনিয়নের কানিপাড়া গ্রামের ওয়াজেদ মন্ডলের মেয়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে স্বামী রবিন মিয়া জামালপুর শহর থেকে ফিরে ঘরের দরজা বন্ধ পান। ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে জানালা দিয়ে উঁকি দিলে তিনি দেখেন, উশনিতা ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলছে। পরে জানালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে মরদেহ নামিয়ে আনেন রবিন। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
ঘটনার পর নিহতের শ্বশুর রইচ উদ্দিন (৪৫) ও শাশুড়ি ফিরোজা বেগমকে (৪০) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে পুলিশ। তবে স্বামী রবিন মিয়া এখনো পলাতক রয়েছেন।
নিহতের সৎমা শিল্পী বেগম সাংবাদিকদের বলেন,
গত বছরের নভেম্বরে উশনিতার বিয়ে হয় রবিন মিয়ার সঙ্গে। বিয়ের পর থেকেই তাকে নির্যাতন করা হতো। শুক্রবার রাত তিনটার দিকে আমাকে ফোন দিয়ে বলা হয়, মেয়ে ফাঁস দিয়েছে। কিন্তু আমার মেয়ে আত্মহত্যা করতে পারে না। ওকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। মরদেহের পোশাকও ছেঁড়া ছিল।”
পরে প্রভাবশালী মাতব্বররা কৌশলে নিহতের স্বজনদের থানার বাইরে ডেকে নিয়ে যান। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা করতে চাপ সৃষ্টি করেন। বৈঠকে নগদ সাড়ে ৭ লাখ টাকা দেওয়ার শর্তে ঘটনাটি আপস করা হয়। এর পর থেকে নিহতের মা থানায় আর কোনো অভিযোগ জানাননি।
মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন,মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্টে হত্যার আলামত পাওয়া গেলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ না এলেও পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে।”




