নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার খারনৈ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ওবায়দুল হকের বিরুদ্ধে সরকারি চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ করেছেন ভিডব্লিউবি (ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট) কর্মসূচির ভুক্তভোগী উপকারভোগীরা।
বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) বিকেলে কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাইযুল ওয়াসীমা নাহাতের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন উপকারভোগী পরিবারগুলো।
সরকারি তথ্যমতে, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন ‘ভিডব্লিউবি’ কর্মসূচির আওতায় খারনৈ ইউনিয়নে ১৯৪ জন উপকারভোগী রয়েছেন। পূর্বে ভিজিডি কার্ডে ২৪ মাসের চাল বিতরণ শেষে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত আরও ছয় মাসের চাল দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কার্ডে জায়গা না থাকায় নিয়ম অনুযায়ী মাস্টাররোলের মাধ্যমে চাল বিতরণ করার কথা থাকলেও অভিযোগ উঠেছে, চেয়ারম্যান ওবায়দুল হক নিয়ম না মেনে পাঁচ মাসের চাল উত্তোলন করলেও উপকারভোগীরা পুরো চাল পাননি।
স্থানীয় নারী উপকারভোগী মমতা, পারুল, আকলিমা, ছালমা, শাহারা, কুলছুমা প্রমুখ জানান, নির্ধারিত পাঁচ বস্তা চালের পরিবর্তে দেওয়া হয়েছে চার বস্তা। তার মধ্যে দুটি ৩০ কেজির বস্তা এবং বাকি চাল বালতিতে করে দেওয়া হয়েছে, যার পরিমাণ ছিল মাত্র ৬০ কেজি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান ওবায়দুল হক বলেন, “চাল বিতরণ শেষ হয়ে গেছে। আমি কোনো অনিয়ম করিনি।”
তবে এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ কর্মকর্তা ও উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার তারিকুল ইসলাম বলেন, “ছয় মাসের মধ্যে পাঁচ মাসের চাল উত্তোলন হয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলব। তবে ভিজিএফের চাল ভিডব্লিউবিতে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কালবেলাকে বলেন, “ভিডব্লিউবি’র চাল কেউ তিন বা চার বস্তা পাওয়ার কথা না। চাল ভেঙে দেওয়ারও সুযোগ নেই। বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখছি।”




