Skip to content
প্রকাশ- November 2, 2026 , 15:12 pm
ময়মনসিংহ বিভাগ

শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা, বিএনপি নেতাকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি

শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা, বিএনপি নেতাকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি

নেত্রকোনা প্রতিনিধি: নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে ভয়ভীতি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩–৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

গত ২৬ আগস্ট কেন্দুয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলাটি করা হয়। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং আদালতে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে।

Advertisement

মামলার পরপরই আব্দুর রাজ্জাক ওরফে আবু মিয়া (৩৬) নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি কেন্দুয়া পৌরশহরের সাউদপাড়া গ্রামের মৃত ছনু মিয়ার ছেলে। মামলার প্রধান আসামি রফিকুল ইসলাম ভূইয়া বকুল (৫৫) পলাতক রয়েছেন। তিনি কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সহসাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ২০ নভেম্বর স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে ওই শিক্ষার্থীকে একটি বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। এ সময় ঘটনার ভিডিও ধারণ করে পরে তা ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ ও হুমকি দেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, পরবর্তী সময়ে একটি চক্রের মাধ্যমে ওই শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে গিয়ে একাধিক ব্যক্তি ধর্ষণ করেন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্তও ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

পরিবারের দাবি, গত ১ আগস্ট চট্টগ্রামে বড় ভাইয়ের বাসায় যাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও পরিবারের সদস্যদের নজরে আসে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে শিক্ষার্থী তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া বিষয়গুলো জানায়। ১৮ আগস্ট চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা করানো হলে তাকে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানা যায়।

এদিকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে রফিকুল ইসলাম ভূইয়া বকুলকে বিএনপির সব দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন খান বলেন, কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তির দায়ভার দল নেবে না এবং দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত কাউকে দলে রাখার সুযোগ নেই।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কেন্দুয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সজল সরকার জানান, আবু মিয়াকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।

স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, কেন্দুয়া পৌরশহরের বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রলোভন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে একটি চক্র অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ানোর চেষ্টা করছে। এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে।

Advertisement