Skip to content
প্রকাশ- November 2, 2026 , 15:12 pm
সম্পাদকের পছন্দ

খাদ্যে ভেজাল: জনস্বাস্থ্য রক্ষায় চাই কঠোর পদক্ষেপ

খাদ্যে ভেজাল: জনস্বাস্থ্য রক্ষায় চাই কঠোর পদক্ষেপ

খাদ্য মানুষের মৌলিক চাহিদা, আর নিরাপদ খাদ্য পাওয়া প্রতিটি নাগরিকের অধিকার। অথচ মুনাফার লোভে খাদ্যে ভেজাল ও অনিরাপদ খাদ্য বিক্রির প্রবণতা জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে উঠছে। বাজার থেকে খাবার কিনে তা নিরাপদ কি না—এ নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ দিন দিন বাড়ছে। যে খাবার শরীরের পুষ্টি জোগানোর কথা, সেটিই যদি অসুস্থতার কারণ হয়, তবে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

মাছ, মাংস, শাকসবজি, ফলমূল, দুধ, তেল ও মসলাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের মান নিয়ে নানা অভিযোগ রয়েছে। কোথাও ক্ষতিকর রাসায়নিকের অপব্যবহার, কোথাও পচা খাবার বিক্রি, আবার কোথাও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য প্রস্তুত ও সংরক্ষণের ঘটনা সামনে আসে। এসব অনিয়মের সবই পরীক্ষা ও প্রমাণের ভিত্তিতে যাচাই করা প্রয়োজন। কারণ, সাধারণ ক্রেতার পক্ষে শুধু দেখে অনেক সময় নিরাপদ ও অনিরাপদ খাবারের পার্থক্য বোঝা সম্ভব হয় না।

অনিরাপদ খাদ্য গ্রহণে খাদ্যে বিষক্রিয়া, সংক্রমণসহ নানা স্বাস্থ্যসমস্যা দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষতিকর উপাদানের দীর্ঘমেয়াদি সংস্পর্শ আরও গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এর ফলে চিকিৎসার ব্যয় বাড়ে, কর্মক্ষমতা কমে এবং সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ে দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের পরিবার। খাদ্যে ভেজাল তাই শুধু অসাধু ব্যবসার সমস্যা নয়; এটি জনস্বাস্থ্য, অর্থনীতি ও সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্ন।

Advertisement

এ পরিস্থিতিতে প্রশাসনের দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। বিচ্ছিন্ন অভিযান কিংবা সাময়িক জরিমানা দিয়ে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। প্রয়োজন নিয়মিত বাজার তদারকি, সন্দেহজনক পণ্যের নমুনা পরীক্ষা, খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থায় নজরদারি এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তি। উৎপাদক, সরবরাহকারী ও বিক্রেতা—যে পর্যায়েই অনিয়ম ঘটুক, দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় জরুরি। পরীক্ষার ফলাফল, অভিযানের বিবরণ এবং গৃহীত ব্যবস্থার তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে। একই সঙ্গে খাদ্য পরীক্ষাগারের সক্ষমতা বাড়ানো এবং নিয়মিত নজরদারির ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন। শুধু অপরাধ শনাক্ত করাই যথেষ্ট নয়; একই অপরাধ যাতে বারবার ঘটতে না পারে, সেই ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে।

ভোক্তাদের সচেতনতা ও গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা এ লড়াইকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। সন্দেহজনক খাদ্যপণ্য সম্পর্কে প্রমাণসহ অভিযোগ জানানো এবং অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মাধ্যমে অনিয়ম তুলে ধরা প্রয়োজন। তবে অভিযোগ প্রকাশের আগে তথ্য যাচাই ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি খাদ্য ব্যবসায়ীদেরও মানসম্মত পণ্য সরবরাহ ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার দায়িত্ব পালন করতে হবে।

খাদ্যে ভেজাল রোধে লোকদেখানো অভিযান নয়, চাই নিয়মিত তদারকি, বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা, কঠোর আইন প্রয়োগ ও প্রশাসনিক জবাবদিহি। মানুষের জীবন নিয়ে মুনাফার খেলা বন্ধ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে দৃশ্যমান ও ধারাবাহিক পদক্ষেপ নিন। মানুষ যেন বাজার থেকে খাবার কিনে নিশ্চিন্তে খেতে পারে—এ নিশ্চয়তা প্রতিষ্ঠা করা এখন সময়ের দাবি।

Advertisement