Skip to content
প্রকাশ- November 2, 2026 , 15:12 pm
মুক্তদেশ

রাষ্ট্রপতির পদকে যত বেশি স্বাধীন, মর্যাদাপূর্ণ ও সর্বজনগ্রাহ্য করা যাবে, ততই শক্তিশালী হবে দেশ: পাটোয়ারী

রাষ্ট্রপতির পদকে যত বেশি স্বাধীন, মর্যাদাপূর্ণ ও সর্বজনগ্রাহ্য করা যাবে, ততই শক্তিশালী হবে দেশ: পাটোয়ারী

স্টাফ রিপোর্টার : রাষ্ট্রপতির পদকে যত বেশি স্বাধীন, মর্যাদাপূর্ণ ও সর্বজনগ্রাহ্য করা যাবে, ততই শক্তিশালী হবে দেশ বলেন, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরউদ্দীন পাটোয়ারী  “বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক দায়িত্ব, কর্তব্য, নির্বাচন পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরে আজ (২ জুলাই) একটা দীর্ঘ ফেসবুক স্টেটাস দিয়েছে। তার ফেসবুক স্টেটাস টি হুবহু তুলে ধরা হলো।

“বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের প্রধান। সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রের নির্বাহী ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির নামে পরিচালিত হলেও, ৫৫ অনুচ্ছেদ অনুসারে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তিনি প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করেন। তাই অনেকেই মনে করেন রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সীমিত। কিন্তু বাস্তবে রাষ্ট্রপতির পদ কেবল আনুষ্ঠানিক নয়; এটি রাষ্ট্রের মর্যাদা, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা এবং জাতীয় ঐক্যের অন্যতম প্রতীক।

Advertisement

রাষ্ট্রপতির কিছু গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্ব হলো,

—প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করা (সংবিধান অনুযায়ী, যিনি সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থা অর্জনে সক্ষম)।
—প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করা।
—নির্বাচন কমিশন, সরকারি কর্ম কমিশন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করা।
—জাতীয় সংসদ আহ্বান, মুলতবি এবং সংবিধান অনুযায়ী প্রয়োজনে ভেঙে দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করা।
—সংসদে পাস হওয়া বিলে সম্মতি প্রদান করা।
—সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ক্ষমা, দণ্ড লাঘব বা স্থগিত করার ক্ষমতা প্রয়োগ করা।
—সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা।
—বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের পরিচয়পত্র গ্রহণ এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নিয়োগে আনুষ্ঠানিক ভূমিকা পালন করা।

অর্থাৎ, রাষ্ট্রপতির প্রতিটি সিদ্ধান্ত হয়তো এককভাবে নেওয়া হয় না, কিন্তু প্রতিটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার কেন্দ্রে এই প্রতিষ্ঠানটি রয়েছে।

এখন প্রশ্ন হলো, এত গুরুত্বপূর্ণ একজন রাষ্ট্রপ্রধান কীভাবে নির্বাচিত হন?

সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন না। জাতীয় সংসদের সদস্যরাই রাষ্ট্রপতিকে নির্বাচিত করেন। বাস্তবে যেহেতু সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় ভোট নিশ্চিত করতে পারে, তাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ থাকে না।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় দেখা যায়, স্বাধীনতার পর থেকে প্রায় সব ক্ষেত্রেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের সিদ্ধান্তই কার্যকর হয়েছে। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা যার, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মূলত তাদের হাতেই থাকে। ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনেক সময় প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক না হয়ে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়।

কিন্তু রাষ্ট্রপতির পদ কোনো রাজনৈতিক পুরস্কার হওয়া উচিত নয়। এটি এমন একটি পদ, যেখানে দলীয় আনুগত্যের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত সততা, সাংবিধানিক নিরপেক্ষতা, নৈতিক সাহস, প্রজ্ঞা এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার মানসিকতা।

একটি দেশের রাষ্ট্রপতিকে দেখেই অনেক সময় বোঝা যায়, সেই রাষ্ট্র তার সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কতটা গুরুত্ব দেয়। যদি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে এমন একজন ব্যক্তি থাকেন, যিনি নৈতিকভাবে দৃঢ়, স্বাধীনভাবে মত প্রকাশে সক্ষম এবং সংবিধানের মর্যাদা রক্ষায় আপসহীন, তাহলে পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থাও বৃদ্ধি পায়।

বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বর্তমান পদ্ধতি সংবিধানসম্মত হলেও, এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মহলে সংস্কারের আলোচনা রয়েছে। কেউ সরাসরি জনগণের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পক্ষে মত দেন, আবার কেউ সংসদীয় পদ্ধতি বহাল রেখেই সর্বদলীয় ঐকমত্য, উন্মুক্ত মনোনয়ন বা অধিকতর স্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রস্তাব দেন। এসবই রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বিতর্কের বিষয়।

শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি খুবই সহজ, বাংলাদেশের মতো ১৮ কোটির একটি রাষ্ট্র কি এমন একজন রাষ্ট্রপতি পাওয়ার যোগ্য নয়, যিনি কেবল একটি দলের প্রতিনিধি নন; বরং পুরো জাতির আস্থার প্রতীক, সংবিধানের নির্ভীক রক্ষক এবং নৈতিক নেতৃত্বের উদাহরণ?

রাষ্ট্রপতির পদকে যত বেশি স্বাধীন, মর্যাদাপূর্ণ ও সর্বজনগ্রাহ্য করা যাবে, ততই শক্তিশালী হবে বাংলাদেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান এবং গণতান্ত্রিক ভিত্তি।”

Advertisement