শিক্ষা একটি জাতির উন্নয়নের প্রধান হাতিয়ার। কিন্তু যখন শ্রেণিকক্ষের পাঠদান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং প্রাইভেট ও কোচিংয়ের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়তে থাকে, তখন স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি কোচিং সেন্টার ও ব্যক্তিগত প্রাইভেট পড়ানোর প্রবণতা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। অভিভাবকদের একাংশের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে শ্রেণিকক্ষে কাঙ্ক্ষিত পাঠদান হয় না। ফলে শিক্ষার্থীদের বাধ্য হয়ে কোচিং বা প্রাইভেটের দ্বারস্থ হতে হয়।
অভিভাবকদের দাবি, বিশেষ করে ইংরেজি, গণিত, পদার্থ, রসায়ন ও জীববিজ্ঞানের মতো বিষয়গুলোতে অনেক শিক্ষার্থীকে আলাদা করে প্রাইভেট পড়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে। একজন শিক্ষার্থীর পেছনে মাসে কয়েক হাজার টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করতে হচ্ছে, যা অনেক পরিবারের জন্য কষ্টসাধ্য।
কিছু শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছে, প্রাইভেট না পড়লে শ্রেণিকক্ষে সব বিষয় স্পষ্টভাবে বুঝতে পারে না। আবার কেউ কেউ মনে করে, প্রাইভেটে পড়া শিক্ষার্থীরা বেশি গুরুত্ব পায়। যদিও এসব অভিযোগের সত্যতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের বিষয়।
শিক্ষাবিদদের মতে, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মূল শিক্ষাদান হওয়া উচিত শ্রেণিকক্ষে। যদি অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে একই শিক্ষকের কাছে আবার প্রাইভেট পড়তে হয়, তাহলে শ্রেণিকক্ষের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
শুধু শিক্ষার্থী নয়, অভিভাবকরাও চান তাদের সন্তান যেন বিদ্যালয় বা কলেজেই মানসম্মত শিক্ষা পায়। কারণ একজন শিক্ষক যখন শ্রেণিকক্ষে আন্তরিকতার সঙ্গে পাঠদান করেন, তখন অতিরিক্ত কোচিংয়ের প্রয়োজন অনেকটাই কমে আসে।
শিক্ষা প্রশাসনের উচিত নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, শিক্ষকদের উপস্থিতি ও পাঠদানের মান মূল্যায়ন এবং অভিভাবকদের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা। একই সঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।
শিক্ষা কোনো পণ্য নয়, এটি একটি সামাজিক দায়বদ্ধতা। শ্রেণিকক্ষই হওয়া উচিত শেখার প্রধান স্থান। সেই শ্রেণিকক্ষ যদি প্রাইভেট ও কোচিংয়ের কাছে গুরুত্ব হারায়, তবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। তাই এখনই সময় শিক্ষার মূল উদ্দেশ্যকে ফিরিয়ে আনার।
– আব্দুর রহিম খান, সাংবাদিক ও লেখক
