২৩ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি সাংবাদিক হোসাম শাবাতের শেষ কথা তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা হয়েছে, যিনি গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় শহীদ হয়েছেন।
সোমবার গাজার বেইত লাহিয়ায় আল জাজিরা মুবারশারের সংবাদদাতা শাবাত ইসরাইলি বিমান হামলায় শহীদ হন। খান ইউনুসের দক্ষিণে পৃথক আরেকটি হামলায় মোহাম্মদ মনসুর, যিনি ফিলিস্তিন টুডের সংবাদদাতা ছিলেন, তিনিও শহীদ হন।
কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্টস (CPJ)-এর হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে গাজায় ১৭০-এর বেশি সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনি সাংবাদিক ইউনিয়ন জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ২০৬ জন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী নিহত হয়েছেন; সোমবারের হত্যাকাণ্ডের পর এই সংখ্যা আরও বেড়েছে।
হোসাম শাবােতের শেষ বার্তাটি তার সহকর্মীরা শেয়ার করেছেন। হোসাম তার শেষ বার্তায় লিখেন-
“যদি আপনি এটি পড়বেন, তখন হয়তো আমি শহীদ হয়েছি—সম্ভবত ইসরায়েলি দখলদার বাহিনীর টার্গেট হয়ে। যখন এই সব শুরু হয়েছিল, আমি মাত্র ২১ বছরের একজন কলেজ ছাত্র ছিলাম—সবার মতোই স্বপ্ন ছিল আমারও। গত ১৮ মাস ধরে, আমি আমার জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত আমার জনগণের জন্য উৎসর্গ করেছি।
আমি উত্তর গাজার ভয়াবহতা মুহূর্তে মুহূর্তে নথিভুক্ত করেছি বিশ্বকে সেই সত্য দেখানোর জন্য, যা তারা মুছে ফেলতে চেয়েছিল। আমি ফুটপাথে, স্কুলে, তাঁবুতে—যেখানে পারতাম সেখানেই ঘুমিয়েছি।
প্রতিটি দিন ছিল বেঁচে থাকার এক যুদ্ধ। আমি মাসের পর মাস ক্ষুধার্ত থেকেছি, তবুও আমার জনগণের পাশ ছাড়িনি। আল্লাহর কসম, আমি একজন সাংবাদিক হিসেবে আমার দায়িত্ব পূরণ করেছি। আমি সত্য তুলে ধরতে আমার সর্বস্ব বাজি রেখেছি, আর এখন আমি শেষ পর্যন্ত বিশ্রাম পেলাম—যেটার স্বাদ আমি গত ১৮ মাসে পাইনি।
আমি এসব করেছি কারণ আমি ফিলিস্তিনের ন্যায্য দাবিতে বিশ্বাস করি। আমি বিশ্বাস করি, এই ভূমি আমাদের। এই ভূমির জন্য লড়াই করা এবং এর মানুষের সেবা করা ছিল আমার জীবনের সর্বোচ্চ গৌরব।
আমি তোমাদের কাছে একটাই অনুরোধ করি: গাজার কথা বলা বন্ধ করো না। দুনিয়াকে এর থেকে চোখ ফিরিয়ে নিতে দিও না। লড়ে যাও, আমাদের গল্প বলে যাও—যতক্ষণ না ফিলিস্তিন মুক্ত হয়।
শেষবারের মতো,
হোসাম শাবাত, উত্তর গাজা থেকে।”




