Skip to content
প্রকাশ- November 2, 2026 , 16:00 pm
ফিচার

হারিয়ে যাওয়া শৈশব

হারিয়ে যাওয়া শৈশব

মো. কামরুল হাসান||

শৈশব—জীবনের সবচেয়ে নির্মল, নিস্পাপ ও আনন্দঘন সময়। কিন্তু আধুনিকতার ছোঁয়া ও সময়ের চাপে আজ সেই শৈশব যেন ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে।

Advertisement

আগে গ্রামের মাঠে বিকেলবেলা ভেসে আসত শিশুদের খেলার হাসি-আনন্দের আওয়াজ। দড়ি লাফ, কানামাছি, গোল্লাছুট কিংবা হা-ডু-ডুতে মুখর হয়ে উঠত চারপাশ। গাছে গাছে পাখির ডাক, নদীর পাড়ে ছুটে যাওয়া, কিংবা খালি পায়ে ধুলোমাখা মাঠে ছুটে বেড়ানো—এসবই ছিল শৈশবের স্বাভাবিক রূপ।

কিন্তু আজ সেই দৃশ্য বিরল। প্রযুক্তির দখলে থাকা শিশু-কিশোররা দিন কাটাচ্ছে মোবাইল ফোন, কম্পিউটার গেমস আর টেলিভিশনের পর্দায়। মাঠ নেই, খেলাধুলার জায়গা নেই, নেই মুক্ত বাতাসে ছুটে বেড়ানোর সুযোগ। বই-পুস্তক, টিউশন আর প্রতিযোগিতার চাপে শৈশবের নির্মল আনন্দ হারিয়ে যাচ্ছে।

শিশুরা এখন স্বপ্ন দেখে ভার্চুয়াল দুনিয়ায়, বাস্তবের সাথে তাদের সম্পর্ক ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে। এভাবেই হারিয়ে যাচ্ছে সেই শৈশব, যেখানে ছিল মাটির গন্ধ, বন্ধুদের সাথে খেলাধুলা, নির্ভার হাসি আর অবারিত স্বাধীনতা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ পরিস্থিতি শিশুদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। শৈশব হারালে বেড়ে ওঠার আনন্দও হারিয়ে যায়।

তাই আমাদের দায়িত্ব—শিশুদের জন্য খেলাধুলার মাঠ ফিরিয়ে দেওয়া, তাদের সময়মতো বিশ্রাম, বিনোদন ও মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা।

কারণ, সেই হারিয়ে যাওয়া শৈশব ফিরে না এলে আগামী প্রজন্মের জীবনও হয়ে উঠবে যান্ত্রিক ও নিরস। শৈশবকে ফিরিয়ে আনতে হবে হাসি, খেলা আর স্বাধীনতার ডানায় ভর করে।

Advertisement