আগুন একটি ভয়াবহ ও ধ্বংসাত্মক শক্তি। অসাবধানতা, দুর্ঘটনা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে মানুষ আগুনে পুড়ে যেতে পারে। এ ধরনের দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ব্যক্তি শারীরিকভাবে যেমন কষ্টে ভোগেন, তেমনি সঠিক ও তাৎক্ষণিক প্রাথমিক চিকিৎসা না পেলে তার জীবন হুমকির মুখে পড়তে পারে।
তাই আগুনে পুড়ে যাওয়া আহত ব্যক্তির প্রতি প্রথম মুহূর্তে করণীয় কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক প্রাথমিক চিকিৎসা রোগীর ব্যথা কমাতে, সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে এবং ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা হ্রাস করতে সাহায্য করে।
আগুনে পুড়ে গেলে প্রাথমিকভাবে করণীয়-
১. আহতকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া:
দুর্ঘটনাস্থলে আগুন জ্বলতে থাকলে প্রথমেই আহত ব্যক্তিকে আগুনের উৎস থেকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিতে হবে। তবে নিজের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে।
২. আগুন নেভানো:
পোশাকে আগুন লেগে থাকলে ‘গড়াগড়ি খাওয়ার’ পদ্ধতিতে আগুন নিভাতে সাহায্য করুন অথবা কম্বল, ভারী কাপড় দিয়ে আগুন ঢেকে দিন।
৩.পোড়া স্থান ঠান্ডা পানি দিয়ে ধোয়া: পোড়ার স্থানে অন্তত ১০-২০ মিনিট ঠান্ডা (কিন্তু বরফ-ঠান্ডা নয়) পানি ঢালুন বা পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। এটি ব্যথা কমায় এবং ক্ষত গভীর হতে বাধা দেয়।
৪. কোনো কিছু লাগানো থেকে বিরত থাকা:
পোড়া স্থানে টুথপেস্ট, মাখন, তেল, বরফ বা অন্য কোনো ঘরোয়া উপাদান লাগানো উচিত নয়। এগুলো সংক্রমণ বাড়াতে পারে।
৫. কাপড় বা জুতো খুলে ফেলা (যদি আটকে না যায়):
পোড়ার জায়গার আশেপাশের ঢিলা পোশাক খুলে ফেলতে হবে, তবে পোড়া স্থানে লেগে থাকলে জোর করে টেনে ফেলা যাবে না।
৬. পরিষ্কার কাপড় বা ব্যান্ডেজ দিয়ে ঢেকে রাখা:
পোড়া জায়গা জীবাণুমুক্ত গজ বা পরিষ্কার তুলনামূলকভাবে স্যাঁতসেঁতে কাপড় দিয়ে ঢেকে দিন, যেন ধুলোবালি বা জীবাণু প্রবেশ করতে না পারে।
৭. প্রচণ্ড ব্যথা বা শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া:
পোড়া অংশ যদি অনেক বড় হয় বা মুখ, হাত, চোখ বা জেনিটালিয়ায় হয়ে থাকে, তবে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নেওয়া জরুরি। শিশুরা ও বৃদ্ধদের জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
৮. জ্ঞান হারালে সিপিআর প্রয়োগ:
আক্রান্ত ব্যক্তি যদি নিঃশ্বাস না নেয় বা সাড়া না দেয়, তাহলে CPR (কার্ডিও-পালমোনারি রিসাসিটেশন) প্রয়োগ করতে হবে প্রশিক্ষিত ব্যক্তির মাধ্যমে।
আগুনে পুড়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে ঠান্ডা মাথায় ও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। প্রাথমিক পদক্ষেপগুলো সঠিকভাবে গ্রহণ করা হলে অনেক ক্ষেত্রেই বড় ধরনের জটিলতা এড়ানো সম্ভব।
তাই প্রত্যেকেরই এমন জরুরি অবস্থায় করণীয় বিষয়গুলো জানা থাকা উচিত, যাতে আমরা নিজেরা সচেতন হয়ে অন্যকে সাহায্য করতে পারি।




