মুক্তকাল ডেস্ক ||
সৌদি আরবে সান্ডা খাওয়ার ঐতিহ্য মূলত বেদুইনদের জীবনধারা থেকে এসেছে যারা শিকার করে প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম হয়ে বাঁচতেন।
সান্ডা খাওয়া ইসলামে হালাল ঘোষণা করা হয়েছে। বিখ্যাত ইসলামী স্কলার ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) সান্ডা নিজে না খেলেও সাহাবীদের তা খেতে নিষেধ করেননি। সুতরাং এটি হালাল হিসেবে স্বীকৃত।
সান্ডা খাওয়ার উপকারিতা :
বিভিন্ন গবেষণা ও প্রাচীন অভিজ্ঞতার আলোকে সান্ডা খাওয়ার বেশ কিছু উপকারিতা রয়েছে:
শক্তিবর্ধক ও পুষ্টিকর :
সান্ডার মাংসে রয়েছে প্রচুর প্রোটিন, আয়রন ও মিনারেল যা শারীরিক শক্তি বাড়াতে সহায়ক। যারা দৈহিক পরিশ্রম বেশি করেন তাদের জন্য এটি কার্যকর।
যৌনস্বাস্থ্যে উপকারিতা :
আরব দেশে প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, সান্ডার মাংস ও চর্বি যৌনস্বাস্থ্য উন্নত করতে সাহায্য করে। এটি এক প্রকার প্রাকৃতিক এফ্রোডিসিয়াক হিসেবে বিবেচিত হয়।
হাড়ের গঠন মজবুত করে :
সান্ডার মাংসে রয়েছে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস যা হাড়ের গঠন মজবুত রাখতে ভূমিকা রাখে। বয়স্ক ও হাড়ের সমস্যায় আক্রান্তদের জন্য এটি উপকারী হতে পারে।
রক্তস্বল্পতা দূর করে :
সান্ডার মাংসে প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকার কারণে এটি অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে কার্যকর।
সান্ডা রান্নার পদ্ধতি ও স্বাদ :
সৌদিতে সান্ডাকে সাধারণত কাবাব, ঝলসানো বা ঝোল করে রান্না করা হয়। অনেক সময় মরিচ, জিরা, গোলমরিচ, দারুচিনি দিয়ে মশলাদার করে ভুনা করা হয়। এর স্বাদ কিছুটা মুরগির মাংসের মতো হলেও ঘন ও গাঢ় হয়।
বাংলাদেশে সান্ডার ব্যবহার ও লোকজ বিশ্বাস
বাংলাদেশে সান্ডাকে অনেকে গায়ের মালিশের তেল তৈরি করতে ব্যবহার করেন। স্থানীয়দের বিশ্বাস, সান্ডার চর্বি বাত, ঘাড় ব্যথা, ও কোমর ব্যথার জন্য খুবই উপকারী। গ্রামগঞ্জে এখনো সান্ডার চর্বি দিয়ে তেল তৈরি করে মালিশ করা হয়।



