কবীর আহমেদ, সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি||
বিতর্কিত সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছে আদালত। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে কুটুক্তির অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় জামালপুরের সরিষাবাড়ী আমলী আদালত এ সমন জারি করে।
শনিবার (২৪ মে) বিকেলে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রুকসানা পারভীন মামলাটি আমলে নিয়ে ডা. মুরাদ হাসানসহ দুইজন আসামীর বিরুদ্ধে সমন জারি করেন।
আদালত সূত্র জানায়, ডা. মুরাদ হাসান প্রতিমন্ত্রী থাকাকালীন ২০২১ সালে পানসিয়ানা নামের ইউটিউব ও ফেসবুক পেইজের টক-শোতে বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও জাইমা রহমানকে নিয়ে অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন।
টকশোর বক্তব্যগুলো মিথ্যাচার, অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ হওয়ায় ১০ হাজার কোটি টাকার অধিক ক্ষতি ও দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন- উল্লেখ করে সরিষাবাড়ী উপজেলার ট্রাক মালিক সমিতির সহ-সভাপতি ও তারাকান্দি চেচিয়াবাঁধা এলাকার মৃত ইদ্রিস আলীর ছেলে সাবেক ছাত্রদল নেতা রুমেল সরকার বাদী হয়ে ২০২৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর মামলা দায়ের করেন।
মামলায় অন্য আসামি হলেন- টকশোর উপস্থাপক চট্টগ্রামের পটিয়া পৌরসভার এটিএম আবুল কাশেমের ছেলে মহি উদ্দিন হেলাল নাহিদ।
বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. মনিরুজ্জামান জানান, ১৯ মে মামলাটির শুনানি হয় এবং শনিবার বিচারক আদেশ দেন। আদালত আগামী ১৯ জুন মামলার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করে। সমনে ওইদিন আসামিদের আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, মুরাদ হাসান জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী) আসন থেকে দুইবারের সংসদ সদস্য ছিলেন। প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি “ধরাকে সরা জ্ঞান” করতে থাকেন। জড়িয়ে পড়েন নানা অনিয়ম ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে। মুখরোচক ও অশ্লীল শব্দোচ্চারণে আলোচিত হয়ে উঠেন সারা দেশে।
এর মধ্যে চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহির সাথে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অডিও কল ভাইরাল হলে সরকার ও দলের মধ্যে চাপে পড়েন। বাদ পড়েন মন্ত্রণালয় থেকে।
এদিকে ৫ আগস্ট স্বৈরাচার সরকার পতনের পর থেকে তার খোঁজ মিলেনি। এর মধ্যে তার গ্রামের বাড়িতে হামলা চালায় বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা।




