Skip to content
প্রকাশ- November 2, 2026 , 15:19 pm
দূর্ঘটনা

জামালপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চারজন নিহতের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্বজনদের আহাজারি।

জামালপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চারজন নিহতের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্বজনদের আহাজারি।

স্টাফ রিপোর্টার: ময়মনসিংহে যাত্রীবাহী বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে সাতজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ছয়জনের বাড়ি জামালপুর সদর উপজেলার রানাগাছা ইউনিয়নে। তাদের চারজন একই পরিবারের সদস্য। নিহতদের মধ্যে দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারীও রয়েছেন।

শুক্রবার দুর্ঘটনার খবর জামালপুরের গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের মধ্যে নেমে আসে শোকের ছায়া। কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা।

Advertisement

নিহতরা হলেন—রানাগাছা ইউনিয়নের দড়িহামিদপুর ভাটিপাড়া গ্রামের মোফাজ্জল হোসেন লেবু, তার ৮৫ বছর বয়সী মা রাশিদা বেগম, ২৫ বছর বয়সী মেয়ে মর্জিনা এবং মর্জিনার পাঁচ বছর বয়সী ছেলে মিনাল। এছাড়া একই ইউনিয়নের বীর গোবিন্দবাড়ী গ্রামের সুজন আলী ও বাদেচান্দি গ্রামের আকরাম আলী নিহত হয়েছেন।

স্বজনদের বরাত দিয়ে জানা যায়, পেশায় রাজমিস্ত্রি ৫৫ বছর বয়সী মোফাজ্জল হোসেন লেবু দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রী ও এক ছেলেকে নিয়ে গাজীপুরের হুতাপাড়া এলাকায় বসবাস করতেন। পরিবারের সদস্যদের গাজীপুরে নিয়ে যাওয়ার জন্য বৃহস্পতিবার তিনি গ্রামের বাড়িতে আসেন।

শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মা, মেয়ে ও নাতিকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। নান্দিনা থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ময়মনসিংহ যাওয়ার কথা ছিল তাদের। পরে সেখান থেকে বাসে করে গাজীপুর যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তারা।

একসঙ্গে পরিবারের চার সদস্যকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন স্বজনরা। মোফাজ্জল হোসেন লেবুর স্বজন ইসমতারা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, লেবু গাজীপুরে দিনমজুরের কাজ করতেন। মা, ভাতিজি ও নাতিকে সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি বাড়িতে এসেছিলেন। মর্জিনা দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন বলেও জানান তিনি।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তারা দুর্ঘটনার জন্য দায়ী বাস ও চালকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা সোহেল রানা বলেন, রাজিব পরিবহনের বাসের কারণে এলাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। একই পরিবারের চারজনসহ সাতজনের মৃত্যুতে তারা গভীরভাবে শোকাহত। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন তিনি।

স্থানীয়দের দাবি, গত ২০ মাসে রাজিব পরিবহনের বাসের কারণে নয়টি দুর্ঘটনায় অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

Advertisement