আতিকুর রহমান আতিক :
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুরুতর অসুস্থতার মধ্যে তাঁর ছেলে ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরবেন কি না—এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আবারও জোরালো আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকারের উপদেষ্টারা জানিয়েছেন, তাঁর দেশের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ঝুঁকি নেই এবং ফিরতে চাইলে সরকার সহযোগিতা করবে।
খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ও তারেকের ফেরা:
গত ২৩ নভেম্বর থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। বিএনপি নেতাদের বক্তব্য, তাঁর বিদেশে নেওয়ার ব্যবস্থা তৈরি হলে তারেক রহমানের দেশে ফেরার সিদ্ধান্তও ত্বরান্বিত হতে পারে। দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও উঠে এসেছে তারেক রহমানের নিরাপত্তা প্রসঙ্গ। নেতারা বলেছেন, নিরাপত্তা ঝুঁকি দূর করতে হবে এবং প্রয়োজনে তারেক রহমানকে এসএসএফের সুরক্ষায় আনার জন্য সরকারকে প্রস্তাব দেওয়া যেতে পারে।
সরকার ইতোমধ্যে খালেদা জিয়াকে ‘অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (ভিভিআইপি)’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। এর পর থেকে এসএসএফ তাঁর নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন আলোচনা—পরিবারের সদস্য হিসেবে দেশে ফিরলে তারেক রহমানও কি এসএসএফের সুরক্ষা পাবেন?
এসএসএফ নিরাপত্তা চাওয়ার প্রস্তুতি:
বিএনপি চেয়ারপারসনের নিরাপত্তা উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ফজলে এলাহী আকবর জানিয়েছেন, তারেক রহমান দেশে ফিরলে তাঁর নিরাপত্তায় এসএসএফের সহায়তা পেতে সরকারকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে গত শনিবার ফেসবুক পোস্টে তারেক রহমানের মন্তব্য—‘দেশে ফেরার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ সম্পূর্ণ একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়।’ এই বক্তব্যের পর থেকেই তাঁর না ফেরা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। বিএনপি নেতারা বলছেন, নিরাপত্তা ঝুঁকিই তাঁর ফেরার সবচেয়ে বড় বাধা; যদিও ঝুঁকি কোন পর্যায়ের—তা তারা স্পষ্ট করে জানাচ্ছেন না।
তারেক রহমানের নতুন পোস্ট:
গতকাল ফেসবুকে তিনি লিখেছেন—দেশবাসীর সমর্থনই তাঁদের শক্তির উৎস এবং খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানান। তিনি আরও জানান, মায়ের স্বাস্থ্যগত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেই দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা:
সোমবার রাতে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তারেক রহমানের ফেরার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক সূত্র জানায়, আবেগ নয়—পরিস্থিতির বাস্তবতা বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার পক্ষে মত হয়েছে। নেতারা দাবি করেন, নিরাপত্তা ঝুঁকি নিরসন ছাড়া দেশে ফেরা ঝুঁকিপূর্ণ; এতে দল ও দেশের অস্থিতিশীলতা তৈরি হতে পারে।
ট্রাভেল পাস হাতে পাওয়ার সুযোগ:
তারেক রহমানের মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্ট নবায়ন করা হয়নি। দেশে ফিরতে হলে তাঁকে বাংলাদেশের বা তৃতীয় দেশের পাসপোর্ট অথবা ট্রাভেল পাস ব্যবহার করতে হবে। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন জানিয়েছেন—তারেক রহমান চাইলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাভেল পাস দেওয়া হবে। তবে এখন পর্যন্ত তিনি কোনো আবেদন করেননি।
তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার প্রয়োজন হলে সরকার প্রস্তুত আছে। চিকিৎসকদের মতামতের ভিত্তিতেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।
নিরাপত্তা নিয়ে সরকারের বক্তব্য:
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী নিশ্চিত করে বলেছেন—বাংলাদেশে কারও নিরাপত্তা নিয়ে কোনো উদ্বেগ নেই। বিশেষ নিরাপত্তার প্রয়োজন হলে মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা নেবে।




