ভারতের কাছে দেশ বিক্রি করেও তিস্তার এক ফোঁটা পানি আনতে পারেনি বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে হলে ভারতকে দাদাদের মতো আচরণ বন্ধ করতে হবে। ভারতের সাথে বন্ধুত্ব চাই, তবে সেটা হবে সম্মানের। অথচ আওয়ামী লীগ ভারতের কাছে দেশ বিক্রি করেও তিস্তার এক ফোঁটা পানি আনতে পারেনি।
সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে লালমনিরহাটে তিস্তা বাঁচাও আন্দোলন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমাদের ছেলেরা লড়াই করেছে। ৩৬ দিনের সবার লড়াইয়ের মাধ্যমে তিনি (শেখ হাসিনা) ওই ভারতে পালিয়েছেন। একদিকে পানি দেয় না, অন্যদিকে জনগণের শত্রুকে (হাসিনা) দিল্লিতে রাজার হালতে বসিয়ে রেখেছে।
তিস্তা আন্দোলন নিয়ে তিনি বলেন, তিস্তা রক্ষার আন্দোলন শেষ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হবে। লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে তিস্তার পানির হিস্যার পাশাপাশি সব অধিকার আদায় করতে হবে।
নির্বাচন প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিএনপি নির্বাচন চায়। কারণ, নির্বাচন দিলে দেশে স্থিতিশীলতা আসবে।
এদিকে, সকাল থেকে ‘জাগো বাহে-তিস্তা বাঁচাই’ স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে রংপুর-লালমনিরহাটের সংযোগস্থলে অবস্থিত তিস্তা রেলসেতু এলাকা। রংপুর বিভাগের ৫ জেলায় তিস্তা চুক্তি ও মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের অংশ হিসেবে এ অবস্থান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মূল সমাবেশ দুপুর ২টা থেকে শুরু হয়েছে। টানা ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে। এর মাধ্যমে তিস্তাপাড়ের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে সরকারকে দাবি বাস্তবায়নে চাপ দেওয়াসহ বিশ্ব পরিমণ্ডলে তিস্তার দুঃখ তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।
মঞ্চের সামনে শিক্ষার্থী, কৃষক, মৎস্যজীবী, পরিবেশকর্মী, শিক্ষক, চিকিৎসক থেকে শুরু করে বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের সদস্যরা এক কাতারে শামিল হয়েছেন তিস্তা রক্ষার দাবিতে। সমাবেশে অংশগ্রহণকারীদের চোখে-মুখে ক্ষোভ আর আশার ছাপ। একদিকে নদী মৃত্যুর প্রহর গুণছে, অন্যদিকে এরই মধ্যে জেগে উঠেছে জনতার অদম্য সংহতি।




