কবীর আহমেদ, সরিষাবাড়ী প্রতিনিধি
জামালপুর-সিরাজগঞ্জ আন্তঃজেলার কুখ্যাত মাদকব্যবসায়ী আতিক ইয়াসির ওরফে হীরা মিয়া (২৩) ১৬ পিস ইয়াবাসহ আবারও গ্রেপ্তার হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজত পাঠানো হয়েছে। এরআগে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে পোগলদিঘা ইউনিয়নের দামোদরপুর এলাকা থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃত হীরা মিয়া জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের চরপোগলদিঘা গ্রামের মৃত ওমর আলীর ছেলে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, হীরা মিয়া জামালপুর-সিরাজগঞ্জ সীমান্ত এলাকা ও চরপোগলদিঘাসহ দুই জেলার বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরেই মাদক ব্যবসা করে আসছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার সন্ধ্যায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। এসময় তার কাছ থেকে ১৬ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, বারবার হিরা মিয়া গ্রেপ্তার হলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে মূল হোতা ও তার সহযোগীরা। বরং গ্রেপ্তারের কিছুদিনের মধ্যে জামিনে আসার পর আগের চেয়ে বেগবান হয় তার মাদকব্যবসা। নেশার টাকা যোগাতে উঠতেি বয়সের কিশোর-তরুণরা নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।
দামোদরপুর গ্রামের যুবদল নেতা শাকিল মুর্শেদ বলেন, পুরো গ্রামে হিরা মিয়ার কারণে মাদকের বিস্তার হয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি ও একই বছরের মে মাসে যৌথ বাহিনীর হাতে হীরা মিয়া গ্রেপ্তার হন। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে মোবাইল ফোন চুরিসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু কেউ তাকে কিছু বলার সাহস করে না। বারবার তিনি গ্রেফতার হলেও সহযোগীরা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে।
চরপোগলদিঘা গ্রামের বিএনপি নেতা শামীম মিয়া বলেন, একই অপরাধে হিরা মিয়া বারবার গ্রেপ্তার হয়েছে। কিন্তু কারামুক্ত হওয়ার পর আবারও সে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। মাদক-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর দামোদরপুর গ্রামের বিক্ষুব্ধ বাসিন্দারা প্রতিবাদ মিছিল বের করেন। মিছিল শেষে তারা হীরার মাদকের আস্তানা ভেঙে দেওয়া হয়।
একই গ্রামের বাসিন্দা জীবন মিয়া বলেন, তার কারণে যুব সমাজ ধ্বংসের পথে। অথচ তিনি গ্রেপ্তার হলেও তার সহযোগীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাদের দ্রুতই গ্রেপ্তার করা না হলে মাদকের ভয়াবহতা থামানো যাবে না।
এব্যাপারে সরিষাবাড়ী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সিদ্দিক হোসেন মুঠোফোনে বলেন, “ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হীরা মিয়ার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে। ইতোমধ্যে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।”
তার সহযোগীদেরও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে বলেও তিনি জানান।




