স্টাফ রিপোর্টার :
জামালপুরে সচেতন নাগরিক ফোরামের উদ্যোগে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যকর্ম নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বাদ আসর শহরের ফৌজদারি মোড় এলাকায় আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলায় এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মো. মোজাম্মেল হক। উদ্বোধনী বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. ছানোয়ার হোসেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামালপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. সিরাজুল হক।
আমন্ত্রিত বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন অ্যাডভোকেট নাজমুল হক সাঈদী, মাওলানা মুফতি শরিফুল ইসলাম বেলালী ও মাওলানা মুফতি ফজলুল হক জামালী। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সালামাবাদ শরীফ আহমাদীয়া সিনিয়র মাদরাসার প্রভাষক আল ইমরান সুজনসহ অন্যরা।
আলোচনা সভায় বক্তারা মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ, মানবিকতা, ন্যায়বিচার ও তাঁর প্রতি ভালোবাসার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, শুধু মুখে নবীজির প্রতি ভালোবাসার কথা বললেই হবে না; তাঁর সুন্নাত ও আদর্শকে ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনে অনুসরণ করতে হবে। মহানবীর শিক্ষা মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, সাম্য, সহমর্মিতা ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার পথ দেখায়।
আলোচনায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য ও ইসলামী চেতনার বিভিন্ন দিকও তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, সকল কবির মধ্যে কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন ব্যতিক্রমী তিনি বিদ্রোহী কবি হিসেবে অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে কলম ধরেছেন। একই সঙ্গে তাঁর কবিতা ও গানে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার প্রকাশ পাওয়া যায়।
বক্তারা আরও বলেন, নজরুলের সাহিত্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তিনি সাম্য ও মানবতার কথা বলেছেন। ধর্ম-বর্ণ, ধনী-গরিবের বিভেদ ভুলে মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার যে আহ্বান তিনি জানিয়েছেন, তা মহানবী (সা.)-এর মানবিক ও সাম্যের শিক্ষার সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পর্কিত। নজরুলের সাহিত্য তাই শুধু বিদ্রোহের নয়, একই সঙ্গে প্রেম, মানবতা, সাম্য ও ন্যায়েরও কথা বলে।
বক্তারা নতুন প্রজন্মকে মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ এবং কাজী নজরুল ইসলামের মানবতাবাদী সাহিত্য সম্পর্কে জানার আহ্বান জানান। তাঁরা বলেন, সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় মহানবীর আদর্শ এবং নজরুলের সাম্য ও মানবতার দর্শন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আলোচনা সভা শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং কল্যাণ কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। পরে উপস্থিত অতিথি ও অংশগ্রহণকারীদের মাঝে খাবার পরিবেশন করা হয়।


