Skip to content
প্রকাশ- November 2, 2026 , 16:01 pm
অন্যান্য

আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচ ঘিরে বিতর্কে যা বলল ফিফা

আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচ ঘিরে বিতর্কে যা বলল ফিফা

স্পোর্টস ডেস্ক, মুক্তকাল:  বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব ও নকআউট মিলিয়ে টানা ২৮ দিনের লড়াই শেষে এবার শুরু হচ্ছে শেষ আটের মহারণ। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাতে মাঠে গড়াচ্ছে কোয়ার্টার ফাইনাল। তবে টুর্নামেন্ট নতুন পর্যায়ে পৌঁছালেও থামছে না আর্জেন্টিনা–মিসর ম্যাচ ঘিরে বিতর্ক।

শেষ ষোলোর সেই হাইভোল্টেজ ম্যাচে রেফারির কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে এখনও আলোচনা চলছে। ম্যাচ শেষে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মিসরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান এবং দলের স্ট্রাইকার মোস্তফা জিকো। তাদের অভিযোগ, ম্যাচ পরিচালনায় আর্জেন্টিনা বাড়তি সুবিধা পেয়েছে। এমনকি ম্যাচটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল বলেও দাবি করেছেন তারা।

Advertisement

তবে মিসর শিবিরের এসব অভিযোগকে গুরুত্ব দিচ্ছে না ফিফা। সংস্থাটির প্রধান রেফারিং কর্মকর্তা পিয়ারলুইজি কলিনা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, রেফারিং নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলোর কোনো ভিত্তি নেই এবং এ নিয়ে অযথা বিতর্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে।

ইনসাইড ফিফা ডটকমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আর্জেন্টিনা–মিসর ম্যাচের বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলোর বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন অভিজ্ঞ এই রেফারি। প্রতিটি ঘটনা পর্যালোচনা করে তিনি বলেছেন, ম্যাচ পরিচালনায় রেফারি কোনো ভুল করেননি।

মিসরের মূল আপত্তি দুটি সিদ্ধান্তকে ঘিরে। প্রথম ঘটনায় ভিএআরের সহায়তায় আগের একটি ফাউল শনাক্ত হওয়ায় মিসরের গোল বাতিল করা হয়। অন্যদিকে, আর্জেন্টিনার তৃতীয় গোলের আগে ফাউলের অভিযোগ থাকলেও সেটি ভিএআরে পর্যালোচনা করা হয়নি বলে দাবি মিসর শিবিরের।

ম্যাচের ৫৮তম মিনিটে পাল্টা আক্রমণ থেকে দারুণ এক গোল করেন মোস্তফা জিকো। তবে আক্রমণের শুরুতে মিসরের এক ডিফেন্ডার আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে ফাউল করেছিলেন। ঘটনাটি প্রায় ৮৫ মিটার দূরে ঘটলেও ভিএআরের পরামর্শে রেফারি সেটি পর্যালোচনা করে ফাউল শনাক্ত করেন এবং গোলটি বাতিল করেন।

অন্যদিকে, নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে পাল্টা আক্রমণ থেকে জয়সূচক গোল করেন আর্জেন্টিনার এনজো ফার্নান্দেজ। আক্রমণের সূচনায় আর্জেন্টিনার ডি-বক্সে হুলিয়ান আলভারেজের সঙ্গে সংঘর্ষে পড়ে যান মিসরের মোহামেদ সালাহ। তবে রেফারি সেটিকে ফাউল হিসেবে দেখেননি।

বিতর্কিত দুটি সিদ্ধান্তেরই ব্যাখ্যা দিয়েছেন ফিফার প্রধান রেফারিং কর্মকর্তা পিয়ারলুইজি কলিনা।

কলিনা বলেন, “প্রতিটি গোল হওয়ার পর ভিএআর আক্রমণাত্মক বল দখলের পর্যায় (অ্যাটাকিং পজেশন ফেজ) যাচাই করে। যদি গোল হওয়ার আগে কোনো ফাউল শনাক্ত হয় এবং সেটি গোল হওয়ার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে হয়, তাহলে ভিএআর মাঠের রেফারিকে ভিডিও দেখে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দেয়।”

তিনি আরও বলেন, “গোল থেকে দূরত্ব কিংবা ফাউলের সময় এবং গোল হওয়ার মধ্যবর্তী ব্যবধানের কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই। আমাদের কাছে ফাউল মানেই ফাউল। রেফারি মাঠে সেটি দেখতে না পেলেও, যদি ভিএআরে তা স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে, তাহলে ভিএআর হস্তক্ষেপ করতে পারে।”

কলিনার ভাষ্য, “যদি গোল হওয়ার আগে কোনো ফাউল শনাক্ত না হয়, তাহলে ভিএআর রেফারিকে সেই তথ্যই জানায়। প্রতিপক্ষের পায়ের ওপর পা রাখা অবশ্যই ফাউল। তবে একজন ডিফেন্ডার যদি আগে বল স্পর্শ করেন এবং এরপর স্বাভাবিক ফুটবলীয় সংস্পর্শ হয়, তাহলে সেটিকে ফাউল ধরা হবে না।”

তিনি যোগ করেন, “এই ম্যাচের শেষ দিকে এমন একটি উদাহরণ দেখা গেছে। রেফারি এবং ভিএআর মিসরের ১০ নম্বর জার্সিধারী মোহামেদ সালাহ ও আর্জেন্টিনার ৯ নম্বর জার্সিধারী হুলিয়ান আলভারেজের মধ্যকার ঘটনাটিকে স্বাভাবিক ফুটবলীয় সংস্পর্শ হিসেবে বিবেচনা করেছেন।”

পাঁচবারের আন্তর্জাতিক বর্ষসেরা রেফারি নির্বাচিত হওয়া কলিনা এ সময় রেফারিং নিয়ে আরও সহনশীল হওয়ার আহ্বান জানান। তার মতে, ভিত্তিহীন অভিযোগ অনেক সময় একজন রেফারি ও তার পরিবারের জন্য হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

তিনি বলেন, “সিদ্ধান্ত নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা অবশ্যই ফুটবলের অংশ। কিন্তু ভিত্তিহীন অভিযোগের কোনো জায়গা এই খেলায় নেই। ফিফা বিশ্বকাপের ম্যাচ পরিচালনাকারী রেফারিদের সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলা উচিত নয়। এমন অভিযোগ রেফারি ও তাদের পরিবারের জন্যও হুমকির পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে, যা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়।”

এ সময় কলিনা জোর দিয়ে বলেন, ম্যাচ পরিচালনায় ফিফা প্রেসিডেন্টেরও কোনো ধরনের প্রভাব থাকে না।

তিনি বলেন, “কেউ দাবি করতে পারে না যে ফিফার রেফারিং ব্যবস্থার ওপর কারও প্রভাব রয়েছে, এমনকি ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোরও নয়। তিনি সবসময় ‘ফিফা টিম ওয়ান’-এর প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন এবং আমাদের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন। ম্যাচ পরিচালনাকারীরা সততার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নেন এবং খেলোয়াড় ও কোচদের মতো তারাও সবসময় নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেন।”

Advertisement