জাবিপ্রবি প্রতিনিধি:
শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাঠাভ্যাস, জ্ঞানচর্চা এবং নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশে বই পাঠ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (জাবিপ্রবি) শাখা। তবে অনিবার্য কারণবশত পূর্বঘোষিত ১৩ জুনের পরিবর্তে প্রতিযোগিতাটি আগামী ২৭ জুন (শনিবার) অনুষ্ঠিত হবে।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, প্রতিযোগিতাটি এমসিকিউ পদ্ধতিতে অফলাইনে অনুষ্ঠিত হবে এবং এতে শুধুমাত্র জাবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করতে পারবেন। প্রতিযোগিতার জন্য নির্ধারিত বই হলো প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ খুররম মুরাদ রচিত ‘সুবহে সাদিক’।
প্রতিযোগিতাটি জামালপুর শহরের পাঁচ রাস্তা মোড় সংলগ্ন উইজডম স্কুলে অনুষ্ঠিত হবে। অংশগ্রহণে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের অনলাইনের মাধ্যমে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, নিবন্ধন কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করার জন্য সকল আগ্রহী শিক্ষার্থীকে আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের জন্য মোট ১০০ নম্বরের ১০০টি এমসিকিউ প্রশ্ন থাকবে। নির্ধারিত বইটি অনলাইনে ডাউনলোড করে পাঠের সুযোগও রাখা হয়েছে।
বিজয়ীদের জন্য আকর্ষণীয় পুরস্কারের ব্যবস্থা করেছে আয়োজকরা। প্রথম স্থান অর্জনকারী পাবেন ৩ হাজার টাকা, ক্রেস্ট ও উপহার। দ্বিতীয় স্থান অধিকারী পাবেন ২ হাজার ৫০০ টাকা, ক্রেস্ট ও উপহার এবং তৃতীয় স্থান অর্জনকারী পাবেন ২ হাজার টাকা, ক্রেস্ট ও উপহার। এছাড়া চতুর্থ ও পঞ্চম স্থান অধিকারীদের জন্য যথাক্রমে ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং ১ হাজার টাকা নগদ পুরস্কারের পাশাপাশি ক্রেস্ট ও উপহার প্রদান করা হবে।
ষষ্ঠ থেকে দশম স্থান অর্জনকারীরা পাবেন ৫০০ টাকা, ক্রেস্ট ও উপহার। এছাড়া একাদশ থেকে বিংশতম স্থান অর্জনকারীদের জন্যও রাখা হয়েছে ক্রেস্ট ও আকর্ষণীয় উপহার।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ফাহাদ আহমদ বলেন, “সুস্থ ধারার জ্ঞানচর্চা এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটানোর লক্ষ্যে আমরা এ বই পাঠ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছি। পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি জীবনমুখী ও আত্মউন্নয়নমূলক বই পাঠে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমান সময়ের নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণ প্রজন্মকে আদর্শিক ও নৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা থেকেই খুররম মুরাদের ‘সুবহে সাদিক’ বইটি নির্বাচন করা হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, বইটি পাঠের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আত্মশুদ্ধি, আধ্যাত্মিক বিকাশ এবং চারিত্রিক উৎকর্ষ অর্জনে অনুপ্রাণিত হবে।”
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, “একটি জ্ঞানভিত্তিক, মেধাবিকাশমুখী ও মূল্যবোধসম্পন্ন ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ কামনা করছি।”




