সাজ্জাদ হোসাইন শাহিন – স্টাফ রিপোর্টার:
জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার খাবুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কর্মস্থল ফাকি, স্কুল ফিডিং বিতরনে অনিয়ম ও শিক্ষার্থী সংকটসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রাথমিক বিদ্যালয় বিমুখ হচ্ছেন স্থানীয় অভিভাবকরা। কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাবে ভেঙে পড়েছে শিক্ষা কার্যক্রম।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খাবুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংখ্যা নথিতে ৮৪ জন ও স্কুল ফিডিংয়ের খাবার নেন ৬৬ জনের। তবে ওই বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতির সংখ্যা একেবারেই সংকীর্ণ। দেখা যায় শিশু শ্রেণীতে ২০-২৫ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত হলেও বেশিরভাগই আসে সরকারি খাবারের জন্য। তৃতীয় শ্রেণীতে উপস্থিত ছিলো ৩ জন চতুর্থ শ্রেণীতে ৪জন ও পঞ্চম শ্রেণীতে ১ জন শিক্ষার্থী। শিক্ষকরা অফিস রুমে বসে করছেন গল্প আর শিক্ষার্থীরা খেলায় কাটাচ্ছে সময়।
স্থানীয়রা জানান, এই স্কুলে কেও পড়তে পাঠাতে চান না। আর যারা আসে সব সময় দেখা যায় খেলাধুলায় ব্যস্ত। প্রতিদিনই শিক্ষকরা আসেন দেরিতে। স্থানীয়দের দাবি বিদ্যালয়টির এমন অবস্থা খোজ নেন না কর্তৃপক্ষ।
চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী শানজিদা আক্তার বলেন, আমরা তিন শ্রেণীর এক রুমে বসেই ক্লাস করি। টিফিনের আগে ক্লাস নেয় মাঝে মাঝে টিফিন দেওয়ার পরেই ছুটি দিয়ে দেয়।
ওই বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংখ্যা ৪জন হলেও নিয়মিত ও নির্দিষ্ট সময়ে উপস্থিত হন না তারা।
সহকারী শিক্ষক মানসুরা আক্তার বলেন, এই এলাকায় অভিভাবকরা অসচেতন। শিক্ষার্থীরা কাজ করে বাড়িতে। এই স্কুলের আশেপাশে অনেক মাদরাসা আছে সেখানে যায় শিক্ষার্থীরা প্রাইভেট স্কুলে যায়। শিক্ষার্থী যখন কম থাকে মাঝে মাঝে এক রুমে বসিয়ে ক্লাস নেয়া হয়। স্কুলে যে বরাদ্দের বিষয়ে আমরা কিছু জানিনা এটা প্রধান শিক্ষক জানেন।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক শরিফ উদ্দিন বলেন, আমরা নিয়মিত স্কুলে যাই। আমরা অনিয়ম করি না। স্লিপ ফান্ডের গত অর্থ বছরের টাকা বরাদ্দ ছিলো ৫০হাজার আমাকে দেওয়া হয়েছে অর্ধেক। এই টাকা থেকে শিক্ষার্থীদের স্কুল ড্রেস দেওয়া হয়েছে।
মেলান্দহ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী চকদার বলেন, বিদ্যালয়টির বিষয়ে শুনলাম।খোঁজ খবর নিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




