বকশীগঞ্জ প্রতিনিধি:
জামালপুরের বকশীগঞ্জে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট চরম ভোগান্তিতে ফেলেছে সাধারণ মানুষকে। প্রখর রোদ উপেক্ষা করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেকেই পেট্রোল, অকটেন কিংবা ডিজেল সংগ্রহ করতে পারছেন না। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালক, পরিবহন শ্রমিক এবং বোরো মৌসুমের কৃষকরা।
শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে পরেশ চন্দ্র সাহা ফিলিং স্টেশনে তেল সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময় পেরিয়ে বেলা ১১টার পর সরবরাহ কার্যক্রম শুরু হয়। এর আগেই রাত ৩টা থেকে শত শত মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহনের চালক পাম্পের সামনে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে থাকেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লাইনের দৈর্ঘ্যও বাড়তে থাকে, যা এক পর্যায়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।
ভুক্তভোগী চালকদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও তারা পর্যাপ্ত তেল পাচ্ছেন না। অনেক ক্ষেত্রে ৩০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না বলেও তারা জানান। তাদের দাবি, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট পরিকল্পিতভাবে তেল সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, সিন্ডিকেটের সদস্যরা ভিন্ন ভিন্ন কৌশলে একাধিকবার তেল সংগ্রহ করে তা অবৈধভাবে মজুত করছে এবং পরে বেশি দামে বিক্রি করছে।
অন্যদিকে ডিজেল সংকটে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কৃষকরাও। বোরো ধানের মৌসুমে সেচ কার্যক্রম চালাতে না পারায় তারা চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এভাবে চলতে থাকলে উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে উপজেলা প্রশাসন সক্রিয় ভূমিকা পালন শুরু করেছে। নবাগত উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুরাদ হোসেন সরেজমিনে পাম্প পরিদর্শন করেন এবং সার্বিক কার্যক্রম মনিটরিং করেন। তিনি জ্বালানি বিতরণে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে বেশ কিছু নির্দেশনা প্রদান করেন।
ইউএনও জানান, “যে কোনো ধরনের অনিয়ম ও অবৈধ মজুত রোধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বৈধ কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স যাচাই করে তেল সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেউ নিয়ম ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রশাসনের এই উদ্যোগে কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনো স্বস্তি ফেরেনি। তারা দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জোরালো হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদে এই সংকট নিরসনে সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন, কঠোর নজরদারি এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় এমন ভোগান্তি ভবিষ্যতেও আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।




