Skip to content
প্রকাশ- November 2, 2026 , 22:04 pm
অন্যান্য

জাবিপ্রবিতে সংবাদ সম্মেলন: নিয়োগ বাতিলসহ উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারের পদত্যাগ দাবি

জাবিপ্রবিতে সংবাদ সম্মেলন: নিয়োগ বাতিলসহ উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারের পদত্যাগ দাবি

স্টাফ রিপোর্টার:

উপাচার্যের অসুস্থতার ভান করে ক্যাম্পাসের বাইরে গেস্ট হাউজে বসে ব্যাক-ডেটে অবৈধ নিয়োগ, ভুয়া স্টাফ দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ এবং নজিরবিহীন দুর্নীতির অভিযোগ তুলে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবিপ্রবি) উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারের পদত্যাগ দাবি করেছেন আন্দোলনকারীরা।

Advertisement

মঙ্গলবার (৪ মার্চ) ‘বিশ্ববিদ্যালয় রক্ষায় অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারী শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ’-এর ব্যানারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ড. আল-মামুন সরকার।

লিখিত বক্তব্যে বর্তমান উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান, উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন এবং রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ নূর হোসেন চৌধুরীর বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরা হয়।

গেস্ট হাউজে বসে ব্যাক-ডেটে নিয়োগ ও আর্থিক অনিয়ম
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, উপাচার্য অসুস্থতার অজুহাত দেখিয়ে ক্যাম্পাসে না গিয়ে গোপনে গেস্ট হাউজে অবস্থান করে বিতর্কিত নিয়োগপত্রে স্বাক্ষর করেছেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি তড়িঘড়ি করে ঢাকায় সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করা হলেও, ক্যাম্পাস বন্ধ হওয়ার আগের দিন অর্থাৎ ৩ তারিখের ব্যাক-ডেটে এসব নিয়োগপত্র প্রদান করা হয়। এছাড়া, ঢাকায় ‘হাজী মকবুল স্কুল এন্ড কলেজ’-এ অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন করে বিপুল পরিমাণ অর্থের অপচয় ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই কয়েকটি নিয়োগ পরীক্ষা শেষ করতেই ৬০ লাখ টাকার বেশি খরচ দেখানো হয়েছে, যা সম্পূর্ণ বিধিবহির্ভূত।

ভুয়া স্টাফের নামে অর্থ আত্মসাৎ
লিখিত বক্তব্যে আরও অভিযোগ করা হয়, উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য তাদের বাসার জন্য বরাদ্দকৃত ড্রাইভার, মালী ও আডালি ব্যবহার না করেই কাল্পনিক বা নিজেদের দেওয়া নাম ব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করছেন।

রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে ‘নির্যাতন কেন্দ্র’ তৈরির অভিযোগ
রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ নূর হোসেন চৌধুরীর নিয়োগকে সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত দাবি করে বলা হয়, ডেপুটি বা অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার হিসেবে তার কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল না। অযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও যোগসাজশের মাধ্যমে তিনি এই পদে বসেছেন এবং বর্তমানে তিনি সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে অশালীন আচরণ করছেন। তার কক্ষটি বর্তমানে একপ্রকার ‘নির্যাতন কেন্দ্রে’ পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন আন্দোলনকারীরা।

এছাড়া, অভ্যন্তরীণ প্রার্থীদের বঞ্চিত করতে নিয়োগ নীতিমালায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ‘Scopus/WoS’ প্রকাশনার শর্ত জুড়ে দেওয়া এবং দুর্নীতিগ্রস্তদের শাস্তির বদলে পদোন্নতি দেওয়ার মতো অভিযোগও তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলন থেকে ৫ দফা দাবি ঘোষণা করা হয়:
১. অবিলম্বে সকল বিতর্কিত নিয়োগ ও পদোন্নতি বাতিল করতে হবে।
২. নিয়োগ ও পদোন্নয়ন নীতিমালার যথাযথ অনুসরণ নিশ্চিত করতে হবে।
৩. দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।
৪. বিশ্ববিদ্যালয়ে ভীতিমুক্ত কর্মপরিবেশ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
৫. উপাচার্য, উপ-উপাচার্য এবং রেজিস্ট্রারের পদত্যাগ চাই।

সবশেষে, বিশ্ববিদ্যালয়টির অস্তিত্ব রক্ষায় মহামান্য চ্যান্সেলর, প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী এবং দুর্নীতি দমন কমিশনসহ (দুদক) সকল আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন প্রতিবাদকারী শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

Advertisement