Skip to content
প্রকাশ- November 2, 2026 , 16:54 pm
অন্যান্য

ইসলামপুরে ঈদে ভিজিএফ কার্ডে ধস বরাদ্দ চার ভাগের এক ভাগ, বঞ্চিত হবে ৩২ হাজার পরিবার!

ইসলামপুরে ঈদে ভিজিএফ কার্ডে ধস বরাদ্দ চার ভাগের এক ভাগ, বঞ্চিত হবে ৩২ হাজার পরিবার!

সাজ্জাদ হোসাইন শাহিন,স্টাফ রিপোর্টার:

নদীভাঙন আর বন্যার সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকা ইসলামপুরে ঈদের আগে ভিজিএফ কার্ডের বরাদ্দে নেমেছে ভয়াবহ ধস। গত ঈদে যেখানে ৪৬ হাজার ৬১০টি কার্ড বরাদ্দ ছিল, সেখানে আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বরাদ্দ এসেছে মাত্র ১৩ হাজার ৮৩৪টি। ফলে অন্তত ৩২ হাজার ২২৭টি দরিদ্র ও অসহায় পরিবার সরকারি খাদ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কায় পড়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা যায়, গত ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ভিজিডি অনু-বিভাগ থেকে ইসলামপুর উপজেলায় মাত্র ১৩.৮৩৪ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল দেওয়া হলে সর্বোচ্চ ১৩ হাজার ৮৩৪টি পরিবার এ সুবিধা পাবে।
গত ঈদে ৪৬.৬১০ মেট্রিক টন, এবার মাত্র ১৩.৮৩৪
২০২৫ সালের ঈদুল আজহা উপলক্ষে ইসলামপুরের ১২ ইউনিয়নে ৪৬ হাজার ৬১০টি পরিবারের জন্য ৪৬.৬১০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ ছিল। অথচ এবারের বরাদ্দ প্রায় চার ভাগের এক ভাগে নেমে এসেছে। হঠাৎ এই বড় ধরনের কাটছাঁটে বিস্মিত জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ।
যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদের তাণ্ডবে ইসলামপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা প্রতি বছরই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উপজেলার প্রায় তিন লাখ জনসংখ্যার একটি বড় অংশ নদীভাঙন ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত। অনেকেই ভিটেমাটি হারিয়ে অন্যের জমিতে বা বাঁধের ওপর আশ্রয় নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। এমন বাস্তবতায় ঈদের আগে ভিজিএফ চালই ছিল বহু পরিবারের একমাত্র ভরসা।
বেলগাছা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক বলেন,
“গত বছর আমার ইউনিয়নে ৩ হাজার ৪৩৭টি কার্ড ছিল। এবার পেয়েছি মাত্র ১ হাজার ৩২টি। প্রায় ৩০ হাজার মানুষ নদীভাঙন ও বন্যাকবলিত। এই অল্প কার্ড কাকে দেবো?”
কুলকান্দী ইউপি চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান আনিছ জানান,
“আমার ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা যমুনার গর্ভে। গত বছর ২ হাজার ৬১০টি কার্ড পেয়েছিলাম, এবার মাত্র ৫৭৪টি। মানুষকে কীভাবে বুঝাবো?”
চিনাডুলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস ছালাম বলেন,
“লোকসংখ্যা প্রায় ৫০ হাজার। ৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৫টি নদীগর্ভে বিলীন। গত বছর ৪ হাজার ৩১৭টি কার্ড ছিল, এবার ১ হাজার ২৯৭টি। এত কম বরাদ্দে সুষ্ঠু বণ্টন করা কঠিন।”
ইসলামপুর উপজেলায় ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা রয়েছে। ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৮২ হাজার ১০৩ জন। উপজেলা পরিসংখ্যান অফিসের তথ্য অনুযায়ী মোট জনসংখ্যা প্রায় তিন লাখ। স্থানীয়দের প্রশ্ন—জনসংখ্যা ও দরিদ্রতার হার অপরিবর্তিত থাকা সত্ত্বেও বরাদ্দ কেন এত কমলো?
ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনসংখ্যা, দারিদ্র্যের হার ও দুর্যোগ পরিস্থিতি বিবেচনায় ভিজিএফ বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়। তবে ইসলামপুরের বাস্তব চিত্রের সঙ্গে এবারের বরাদ্দের সামঞ্জস্য খুঁজে পাচ্ছেন না স্থানীয়রা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নামজুল হুসাইন বলেন, “বিষয়টি এখনো বিস্তারিতভাবে জানি না।”
জামালপুর-২ (ইসলামপুর) আসনের সংসদ সদস্য এ.ই সুলতান মাহমুদ বাবু জানান, বিষয়টি তার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আসেনি। তবে তিনি ত্রাণমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
নদীভাঙনে সর্বস্ব হারানো ছিন্নমূল পরিবারগুলোর দাবি, ঈদের আগে এই ১০ কেজি চালই ছিল তাদের ঘরে আনন্দের একমাত্র সম্বল। বরাদ্দ কমে যাওয়ায় এবার অনেকের ঘরেই ঈদের হাসি ম্লান হয়ে যেতে পারে।
ইসলামপুরবাসীর প্রত্যাশা—দুর্যোগপ্রবণ ও দরিদ্র অধ্যুষিত এই জনপদের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়া হোক। অন্যথায় ঈদের আগে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে চরম সংকটে পড়বে হাজারো পরিবার।

Advertisement

Advertisement