প্রজ্ঞাপন মেনে নিয়ে কর্মবিরতি ও আন্দোলন প্রত্যাহার করেছেন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেইনি চিকিৎসকরা। একই সঙ্গে আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে তারা কাজে যোগ দেবেন বলে জানিয়েছেন।
সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডা. মিলন হলে আন্দোলনকারী ট্রেইনি চিকিৎসকদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সারাদেশে প্রায় ১০ হাজার পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেইনি চিকিৎসক রয়েছেন। দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে উচ্চতর শিক্ষার পাশাপাশি তারা হাসপাতালে রোগীদের সেবা দেন।
ভাতা বাড়ানোর দাবিতে ২০২২ সাল থেকে আন্দোলন চালিয়ে আসছে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেইনি চিকিৎসকরা। তাদের আন্দোলনের পর আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়ে জুলাই মাসে মাসিক ভাতা পাঁচ হাজার টাকা বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা করা হয়। ওই ভাতা ‘যৌক্তিক নয়’ দাবি করে আপত্তি জানিয়ে আসছিলেন তারা।
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় এলে আবারও ভাতা বাড়ানোর দাবিতে সড়কে নামেন চিকিৎসকরা। গত ২২ ডিসেম্বর তারা শাহবাগে সড়ক অবরোধ করলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতা সারজিস আলমের কাছ থেকে দাবি পূরণের আশ্বাস পেয়ে তারা রাস্তা ছাড়েন।
পরে গত ২৩ ডিসেম্বর বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনসের (বিসিপিএস) এফসিপিএস প্রথম পর্ব পাস করা অবৈতনিক প্রশিক্ষণার্থীদের পারিতোষিক ভাতা পাঁচ হাজার টাকা বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করার প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। তা প্রত্যাখ্যান করে রোববার রাজধানীর শাহবাগে সড়ক অবরোধ করেন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট প্রাইভেট ট্রেইনি চিকিৎসকরা। তাদের দাবি ভাতা বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করতে হবে। পরে দুপুরের পর প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমানের হেয়ার রোডের বাসায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন।
সেখানে ভাতা বাড়িয়ে ৩৫ করার সিদ্ধান্ত হয়, যা জুলাই থেকে কার্যকর হবে। আজ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হলে তা মেনে নিয়ে আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে কাজে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দেন ট্রেইনি চিকিৎসকরা।
মুক্তকাল/এসআর
