মুক্তকাল রিপোর্ট: বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে ভোটাধিকার প্রাপ্তির ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর। তবে কিছু দেশে এই বয়সসীমা কমিয়ে ১৭ বা ১৬ বছর করা হয়েছে। নিচে এমন কিছু দেশের তালিকা দেওয়া হলো:
ভোটাধিকার প্রাপ্তির বয়স ১৭ বছর যেখানে:
- ইন্দোনেশিয়া
- উত্তর কোরিয়া
- সুদান
- গ্রিস
ভোটাধিকার প্রাপ্তির বয়স ১৬ বছর যেখানে:
- আর্জেন্টিনা: ১৬ বছর বয়সীরা ভোট দিতে পারে।
- ব্রাজিল: ১৬ বছর বয়সীরা ভোট দিতে পারে।
- কিউবা: ১৬ বছর বয়সীরা ভোট দিতে পারে।
- ইকুয়েডর: ১৬ বছর বয়সীরা ভোট দিতে পারে।
- মাল্টা: ১৬ বছর বয়সীরা ভোট দিতে পারে।
এছাড়া, জার্মানি এবং অস্ট্রিয়া‘র কিছু প্রদেশে স্থানীয় নির্বাচনে ১৬ বছর বয়সীরা ভোট দিতে পারে।
সম্প্রতি, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ভোটার হওয়ার বয়স ১৮ থেকে কমিয়ে ১৭ বছর করার প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি বলেন, “তরুণরা সংখ্যায় বেশি এবং দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আগ্রহী। নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাদের মতামত নেওয়ার জন্য আমি মনে করি ভোটার হওয়ার বয়স ১৭ বছর নির্ধারিত হওয়া উচিত।”
তবে, এই প্রস্তাব নিয়ে রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “এখন তাহলে কী করতে হবে? নতুন করে আবার ভোটার তালিকা তৈরি করতে হবে। আমি মনে করি, এ বিষয়কে এভাবে না বলে, এ নিয়ে অংশীজনের সঙ্গে কথা বলে তার পরে এ বিষয় আনতে পারলে ভালো হতো, কোনো বিতর্কের সৃষ্টি হতো না।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভোটার হওয়ার বয়স কমানোর আগে জাতীয় ঐকমত্য এবং সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ বলেন, “বিশ্বের কিছু কিছু দেশে ১৭ বছর বা তার কম বয়সেও ভোটাধিকার আছে। এটা একেক দেশ একেক প্রেক্ষাপটে করেছে। আমাদের দেশে ১৮ থেকে এক বছর কমিয়ে ১৭ হতে পারে বলে আমি মনে করি। প্রধান উপদেষ্টা যেটা বলেছেন, আমার বিবেচনায় সেটা হতে পারে।”
তথ্যসূত্র: electionguide.org, BBC, Guardian, DW, Dhaka Tribune
