Skip to content
প্রকাশ- November 2, 2026 , 16:55 pm
অন্যান্য

ফেনীতে বিএনপির জনসভায় বিশৃঙ্খলা, ১৫ সাংবাদিকসহ আহত অন্তত ৪০

ফেনীতে বিএনপির জনসভায় বিশৃঙ্খলা, ১৫ সাংবাদিকসহ আহত অন্তত ৪০

মুক্তকাল ডেক্স
ফেনীতে অনুষ্ঠিত বিএনপির জনসভায় চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছে। রোববার রাতে ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এ জনসভায় দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান দ্বিতীয়বারের মতো বক্তব্য দেন। জনসভা মাঠ ছাড়িয়ে শহরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়লেও শৃঙ্খলাহীনতার কারণে পুরো আয়োজন নিয়েই অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
বক্তৃতার একপর্যায়ে অতিরিক্ত হট্টগোল ও বিশৃঙ্খলায় বিরক্ত হয়ে তারেক রহমান বক্তব্য সংক্ষিপ্ত করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তিনি সবাইকে শান্ত হয়ে বসার অনুরোধ জানান এবং তা না মানলে বক্তব্য বন্ধ করার হুঁশিয়ারি দেন। এ সময় তিনি বলেন, “এখানে আমার নানার বাড়ি—কথা না শুনলে বক্তব্য বন্ধ করে দেবো।” এরপর কিছুক্ষণ চেয়ারে বসে থাকেন তিনি। পুনরায় বক্তব্য শুরু করলেও তার মুখভঙ্গিতে ক্ষোভ স্পষ্ট ছিল।
বক্তৃতা শেষে গুম, খুন ও আন্দোলনে নিহতদের পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে সাক্ষাতের সময়ও বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। নেতাকর্মীদের হুড়োহুড়িতে নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে পড়ে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে বিজিবি, পুলিশ ও সিএসএফ সদস্যরা দ্রুত তারেক রহমানকে নিরাপদে গাড়িতে তুলে দেন।
এর আগেও বক্তৃতাকালীন একদল নেতাকর্মী নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে মঞ্চের দিকে এগিয়ে গেলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কয়েকজন মঞ্চে উঠার চেষ্টা করলে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সাইদুর রহমান জুয়েল একজনকে মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেন। অন্য নেতারাও পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।
অনুষ্ঠান পরিচালনা ও প্রটোকল না মানা নিয়েও কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা গেছে। একাধিক কেন্দ্রীয় নেতার পর বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু, যা নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়। এছাড়া সাউন্ড সিস্টেমের দুর্বলতা, মোবাইল ও মানিব্যাগ চুরির অভিযোগও ওঠে।
জনসভা মঞ্চ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল জেলা আওয়ামী লীগের পলাতক সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত সোহেলকে। এ কারণে অনেকে পুরো ঘটনায় নাশকতার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
ঘটনায় অন্তত ১৫ জন সাংবাদিকসহ মোট ৪০ জন আহত হন। তবে আহতদের খোঁজ নিতে বিএনপির কোনো শীর্ষ নেতাকে দেখা যায়নি। কয়েকজন আহতকে মঞ্চের পাশে একটি মসজিদের ভেতরে শুইয়ে রাখতে দেখা গেছে।
সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ফেনী টেলিভিশন জার্নালিস্ট ক্লাবের সভাপতি আতিয়ার সজল। তিনি বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা ও হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।
জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল বলেন, অতিরিক্ত আবেগের কারণে নেতাকর্মীরা মঞ্চের দিকে ছুটে যান। প্রটোকল ভাঙার বিষয়টি বড় আয়োজনের কারণেই হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। জেলা আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহারও সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন।
এ বিষয়ে রফিকুল আলম মজনুর বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

Advertisement
Advertisement