Skip to content
প্রকাশ- November 2, 2026 , 23:07 pm
অন্যান্য

বকশিগঞ্জে সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভবনা দেখছেন কৃষকরা

বকশিগঞ্জে সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভবনা দেখছেন কৃষকরা

Oplus_131072

মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা, বকশীগঞ্জ প্রতিনিধি:

জামালপুরের বকশিগঞ্জ উপজেলার কৃষকদের মাঝে এ মৌসুমে সরিষা চাষ নিয়ে দেখা দিয়েছে আশার আলো। অনুকূল জলবায়ু, উর্বর জমি এবং কৃষকদের নিরলস পরিশ্রমে এ অঞ্চলে সরিষা চাষে ব্যাপক সাড়া মিলেছে। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার, উন্নত জাতের বীজ এবং সময়োপযোগী পরিচর্যার ফলে মাঠজুড়ে সরিষার ভালো ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

Advertisement

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে বকশিগঞ্জ উপজেলায় সরিষা আবাদে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৭ হাজার ৯১৫ হেক্টর জমিতে। তবে ভুট্টা চাষ বৃদ্ধি পাওয়ায় লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কম জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। এ বছর উপজেলায় মোট ৫ হাজার ৫৭০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করা হয়েছে। পাশাপাশি কৃষকদের উৎসাহিত করতে সরকারিভাবে ৫ হাজার কৃষকের মাঝে প্রণোদনা বিতরণ করা হয়েছে।

বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরিষা ক্ষেতগুলোতে ফুল ঝরে গিয়ে গুটি ও ফলন আসা শুরু করেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের নিয়মিত তদারকি, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের পরামর্শ এবং অনুকূল আবহাওয়ার কারণে সরিষার ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে। এতে কৃষকদের মুখে ফিরছে হাসি।

উপজেলার সাধুরপাড়া গ্রামের কৃষক আক্তার গাজী জানান, চলতি মৌসুমে তিনি পাঁচ বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছেন। গত বছর চার বিঘা জমি থেকে তিনি ১৭ মণ সরিষা পেয়েছিলেন। তিনি বলেন, “সরিষার চাষ সহজ, উৎপাদন ব্যয় কম এবং অল্প সময়েই ঘরে তোলা যায়। তাই অন্যান্য রবি শস্যের তুলনায় সরিষা চাষে লাভ বেশি।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর আরও ভালো ফলন পাবেন।

একইভাবে বগারচর ইউনিয়নের আলীরপাড়া গ্রামের কৃষক বিল্লাল মিয়া জানান, গত মৌসুমে তিনি দুই বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করে প্রতি বিঘায় প্রায় ছয় মণ করে ফলন পেয়েছিলেন। এ বছর তিনি তিন বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছেন এবং আগের বছরের চেয়ে ভালো ফলনের প্রত্যাশা করছেন।

এ বিষয়ে বকশিগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, সরকার কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। কৃষকদের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা ও গবেষকরা নিয়মিত কাজ করছেন। কৃষকদের প্রশিক্ষণ, উন্নত বীজ সরবরাহ ও নিয়মিত মাঠ তদারকির মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, “এ মৌসুমে ভুট্টা চাষ বৃদ্ধি পাওয়ায় সরিষার আবাদ কিছুটা কম হয়েছে। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবারও ভালো ফলনের আশা করা যাচ্ছে।”

কৃষক ও কৃষি বিভাগের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বকশিগঞ্জে সরিষার সম্ভাব্য ভালো ফলন শুধু কৃষকদের আর্থিক সচ্ছলতা বাড়াবে না, পাশাপাশি দেশের ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Advertisement