স্টাফ রিপোর্টার:
জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবিপ্রবি) ছাত্র হল ‘মির্জা আজম হল’-এর নাম পরিবর্তন নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে গণভোটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আগামী বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রশাসনিক ভবনের লবিতে এ গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্র জানায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, নির্যাতন ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে সাজাপ্রাপ্ত নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কোনো কর্মী বা শিক্ষার্থী এই ভোটে অংশ নিতে পারবেন না।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের লবিতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান ও উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেনের উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ছাত্র হলটির নামকরণ করা হয়েছিল সাবেক স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজমের নামে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ৫ আগস্ট স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পর ফ্যাসিস্টদের নামে থাকা প্রতিষ্ঠানের স্থাপনার নাম পরিবর্তনের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় ‘মির্জা আজম হল’ ও তার মাতার নামে থাকা ছাত্রী হল ‘নুরুন্নাহার বেগম হল’-এর নাম পরিবর্তনের দাবি ওঠে।
ছাত্রী হলের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের সর্বসম্মত প্রস্তাবে ‘অপরাজিতা’ নামটি চূড়ান্ত হওয়ায় সেখানে কোনো ভোটের প্রয়োজন হয়নি। তবে ছাত্র হলের নামকরণ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি হয়। একপক্ষ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে ‘বিজয় ২৪’ নামকরণের দাবি তোলে। অন্যপক্ষ জামালপুরের ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব হযরত শাহ্জামাল (র.)-এর নামে হলটির নাম রাখার প্রস্তাব দেয়।
এই মতভেদ নিরসনে সুষ্ঠু ও গণতান্ত্রিক সমাধানের লক্ষ্যে গণভোটের আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ‘বিজয় ২৪’ ও ‘হযরত শাহ্জামাল (র.)’—এই দুই নামের মধ্য থেকে একটি নাম চূড়ান্ত করতে ভোট গ্রহণ করা হবে। ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন কেবল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত পুরুষ শিক্ষার্থীরা।
হল প্রভোস্ট ড. মুহাম্মদ ফরহাদ আলী জানান, বুধবার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির নাম ও মোট ভোটার সংখ্যা প্রকাশ করা হবে। বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ শেষে রাতেই ফলাফল ঘোষণা করা হবে। সর্বাধিক ভোটপ্রাপ্ত নামটিই পরবর্তীতে প্রশাসনিকভাবে হলের স্থায়ী নাম হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে যেসব নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কর্মীকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে, তারা এই গণভোটে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন না।




