Skip to content
প্রকাশ- November 2, 2026 , 19:57 pm
অন্যান্য

চরমোনাই ইস্যুতে সংকটে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ইসলামি জোট

চরমোনাই ইস্যুতে সংকটে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ইসলামি জোট

Oplus_131072

মুক্তকাল ডেক্স:
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ইসলামি জোট ভাঙনের মুখে পড়েছে। চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত না হওয়ায় জোটগত নির্বাচনের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামী প্রাথমিকভাবে প্রায় ৪০টি আসন ছাড় দিতে রাজি হলেও চরমোনাইর পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম তাতে সন্তুষ্ট নন। দেশব্যাপী তাদের বড় ভোটব্যাংক রয়েছে—এমন দাবি করে ইসলামী আন্দোলন আরও বেশি আসনের দাবিতে অনড় অবস্থানে রয়েছে। একাধিক দফা বৈঠক হলেও এ বিষয়ে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। এমনকি অতিরিক্ত কিছু আসন উন্মুক্ত রাখার প্রস্তাবেও তারা রাজি না হওয়ায় জোট ভাঙনের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এদিকে আসন সমঝোতার অংশ হিসেবে জামায়াতে ইসলামী চরমোনাই পীর ও মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন দলগুলোর প্রার্থীদের বিপরীতে এক ডজনের বেশি আসনে নিজস্ব প্রার্থী দেয়নি। এই ছাড়ের ফলে সংশ্লিষ্ট দলগুলো দরকষাকষিতে বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অভিমত।
মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসও তাদের সাংগঠনিক অবস্থানের তুলনায় বেশি আসনের দাবি করায় জামায়াতের সঙ্গে চূড়ান্ত সমঝোতা এখনো হয়নি। শেষ পর্যন্ত এই দুই দল ১১ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে আলাদাভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারে বলেও জানা গেছে।
গত মঙ্গলবার আসন ভাগাভাগি চূড়ান্ত করে ১১ দলের যৌথ ঘোষণা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা সফল হয়নি। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সমঝোতার খবর পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে জামায়াতের নেতৃত্বে আট দলীয় ইসলামি জোট আন্দোলন করে আসছিল। তবে জুলাইযোদ্ধাদের সংগঠন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন এলডিপি এবং এবি পার্টি যুক্ত হয়ে ১১ দলীয় জোট গঠনের পর ইসলামি দলগুলোর সঙ্গে জামায়াতের দূরত্ব বাড়তে থাকে।
নতুন তিন দল যুক্ত হওয়ার পর ইসলামি শরিকদের গুরুত্ব কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। বিশেষ করে এনসিপি যুক্ত হওয়ায় জামায়াতের ওপর চাপ সৃষ্টি করার সক্ষমতা হারাচ্ছে বলে মনে করছে শরিক ইসলামি দলগুলো। এ কারণেই জোটবদ্ধ নির্বাচনের প্রতি তাদের আগ্রহও কমতে থাকে।
মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনের আগে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জোটগত অংশগ্রহণের ঘোষণা দেওয়া হলেও পরদিন দেখা যায়, ৩০০ আসনের বিপরীতে জোটের প্রায় ৬০০ প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তখন জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সময় স্বল্পতার কারণে এমনটি হয়েছে এবং পরে আলোচনার মাধ্যমে আসন চূড়ান্ত করা হবে।
এরই মধ্যে জামায়াত জাতীয় নাগরিক পার্টিকে ৩০টি আসন ছেড়ে দিতে সম্মত হয়েছে, যা এনসিপি আনুষ্ঠানিকভাবে মেনে নিয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে ১৫টির বেশি, খেলাফত মজলিসকে ১০টি, এলডিপিকে ৭টি, এবি পার্টিকে ৩টি এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টিকে ২টি আসন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে জাগপা, নেজামে ইসলাম পার্টি ও খেলাফত আন্দোলনের আসন ভাগাভাগি এখনো নিশ্চিত নয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন সমঝোতা নিয়ে টানাপোড়েন অব্যাহত থাকলে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ইসলামি জোটের ভবিষ্যৎ বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

Advertisement
Advertisement