Skip to content
প্রকাশ- November 2, 2026 , 19:57 pm
অন্যান্য

বিএনপির জোটে না গেলে দুই উপদেষ্টার দলে না ফেরার ইঙ্গিত: নির্বাচনী জোট নিয়ে এনসিপিতে মতবিরোধ তীব্র

বিএনপির জোটে না গেলে দুই উপদেষ্টার দলে না ফেরার ইঙ্গিত: নির্বাচনী জোট নিয়ে এনসিপিতে মতবিরোধ তীব্র

Oplus_131072

বিশেষ প্রতিনিধি, মুক্তকাল:
নির্বাচনী জোটে যাওয়া– না যাওয়া নিয়ে নবগঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-তে তীব্র টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে। দলটি বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটে যাবে নাকি জামায়াতে ইসলামীসহ অন্য উদীয়মান জোটে যোগ দেবে— এ প্রশ্নে নেতাদের মধ্যে স্পষ্ট বিভাজন তৈরি হয়েছে।

দলীয় সূত্র জানায়, এনসিপির দুই ছাত্র উপদেষ্টা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, বিএনপির সঙ্গে জোট না হলে তারা দলে যোগ দেবেন না। তারা সরাসরি বিএনপিতে যোগ দেওয়ার কথাও বিবেচনা করছেন। তবে তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।

Advertisement

আলোচনায় অংশ নেওয়া ১০ জন কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, যারা বিএনপির কাছে আসনের নিশ্চয়তা পেয়েছেন তারা বিএনপির জোটে যেতে আগ্রহী। বিএনপি ৫ থেকে ৮টি আসন ছাড়তে পারে বলে ধারণা তাদের। অন্যদিকে দলটির বড় অংশ মনে করে, জামায়াত ৪০-৫০টি আসন ছাড়তে পারে। ফলে অধিকাংশ নেতাই জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতার পক্ষে। তবে দুই ছাত্র উপদেষ্টার অনুসারী নেতারা জামায়াতের জোটে যাওয়ার তীব্র বিরোধিতা করছেন।

এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব জানান, দলটি নিজস্ব শক্তিমত্তা যাচাই করে প্রার্থী বাছাই করছে। পরে সিদ্ধান্ত হবে– এককভাবে নির্বাচন করবে নাকি কোনো জোটে যোগ দেবে।

অন্যদিকে দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ফেসবুকে লিখেছেন, কর্তৃত্ববাদী রাজনীতির বিরুদ্ধে বিএনপি ও এনসিপির “দায়িত্বশীল ঐক্য” প্রয়োজন। তবে বিএনপিকে পরিবারতন্ত্রের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে সংস্কারের পথে এগোতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার এই পোস্ট ঘিরেও দলে বিতর্ক দেখা দিয়েছে।

উপদেষ্টাদের অবস্থান:

জুলাই অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের দুই উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব এনসিপির গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন। জানা গেছে, বিএনপি-এনসিপি জোট হলে তারা দলে যোগ দিতে রাজি। কিন্তু জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা হলে একজন উপদেষ্টা সরাসরি বিএনপির টিকিটে নির্বাচন করতে পারেন।

নিজস্ব জোট গঠনে বাধা:

এনসিপি, এবি পার্টি, গণঅধিকার পরিষদ, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন ও আপ বাংলাদেশ নিয়ে নিজস্ব জোট গঠনের আলোচনাও চলছে। তবে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতাদের সংগঠন আপ বাংলাদেশকে জোটে নেওয়া নিয়ে এনসিপির ভেতরে তীব্র আপত্তি আছে। সে কারণে জোট প্রক্রিয়া জটিল হয়ে উঠেছে।

গণঅধিকার পরিষদেও মতবিরোধ রয়েছে— সভাপতি নুরুল হক নুর এনসিপির সঙ্গে জোটে যেতে আগ্রহী হলেও সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বিএনপির সঙ্গেই থাকতে চান।

জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতায় আগ্রহ বেশি:

এনসিপির নির্বাহী পরিষদের কয়েকজন নেতার মতে, বিএনপির সম্ভাব্য ৮টি আসন বণ্টন অনিশ্চিত। এর বিপরীতে জামায়াত ৪০-৫০টি আসন ছাড়লে অধিকাংশ নেতাকে প্রার্থী করা যাবে। এতে দলীয় ক্ষোভ, ভাঙন ও বঞ্চনার ঝুঁকি কমবে।

এ কারনেই এনসিপির অনেক নেতা “নিজস্ব জোট” গঠনের মাধ্যমে জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতার পথ খোলা রাখতে চান— যাতে আওয়ামী-বিদ্বেষী জোটে অংশ নিয়ে দলকে ‘ইসলামপন্থি’ পরিচয়ের ঝুঁকি সরাসরি নিতে না হয়।

Advertisement