মাদারগঞ্জ প্রতিনিধি:
জামালপুরের মাদারগঞ্জে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মেসার্স দেশ এন্টারপ্রাইজের ডিলার মোহাম্মদ গোলাম কাদির ওরফে রবিউল মাস্টারের বিরুদ্ধে। হতদরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দ স্বল্পমূল্যের খাদ্যশস্য বিতরণে নিয়মিত অনিয়মের এমন অভিযোগ এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কার্ডপ্রতি ৪৫০ টাকায় ৩০ কেজি চাল দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে গ্রাহকরা পাচ্ছেন ২৮ কেজি ২০০ গ্রাম থেকে ২৮ কেজি ৬০০ গ্রাম পর্যন্ত। প্রতি গ্রাহকের দুই কেজি করে চাল কম দেওয়ায় কোয়ালিকান্দী ও তেঘরিয়া গ্রামের ৪৭৩ জন সুবিধাভোগীর হিসাবে মোট ৯৪৬ কেজি চাল অতিরিক্ত থেকে যাচ্ছে ডিলারের গুদামে।
স্থানীয়রা জানান, অভিযোগ করতে গেলে ডিলারের ভয়-ভীতি প্রদর্শনের কারণে অধিকাংশ গ্রাহক মুখ খুলতে সাহস পান না। অভিযোগ রয়েছে, অনেক সময় ডিলার পয়েন্ট বন্ধ পাওয়া যায়। আবার ডিলারের কীটনাশকের দোকানে গেলে বলা হয়—“আগামী মাসে এসে দুই মাসেরটা একসঙ্গে নিয়ে যাবেন।” কিন্তু বাস্তবে দুই মাসের চাল না দিয়ে এক মাসের চাল ধরিয়ে দিচ্ছেন তিনি।
এ বিষয়ে মেসার্স দেশ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ গোলাম কাদির ওরফে রবিউল মাস্টারের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
নিয়োগকৃত তদারকি কর্মকর্তা আফরোজা বেগমের মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন কর্মকর্তা মো. গোলাম হোসেন বলেন, “আমরা সকাল ১১টার দিকে পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। কয়েকজন সুবিধাভোগীর কাছ থেকে চাল কম পাওয়ার অভিযোগ পেয়েছি। আগের মাসগুলোতেও কিছু গ্রাহক চাল পাননি বলে জানান। ডিলারকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। কেউ লিখিত অভিযোগ না করায় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে প্রমাণসহ অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”




