হাটহাজারী প্রতিনিধি:
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় ছাত্র ও সাধারণ মানুষের উপর হামলা, পুলিশের কাজে বাধা, হত্যাচেষ্টাসহ গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগে দায়ের করা একাধিক মামলার আসামি হাটহাজারী উপজেলার ধলই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মো. মনছুরকে ঘিরে চলছে দলবদলের গুঞ্জন। জামিন পাওয়ার সুবিধার জন্য তিনি বিএনপিতে যোগ দেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছেন বলে স্থানীয়ভাবে নানা আলোচনায় উঠেছে।
অভিযোগ উঠেছে, দলীয় পরিচয় বদলানোর মাধ্যমে মনছুরকে জামিনে মুক্তির জন্য কিছু মহল চেষ্টা চালাচ্ছে। জেল থেকে বেরিয়ে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার আশ্বাস তিনি পেয়েছেন, এমন গুঞ্জনে এলাকায় উদ্বেগ, ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, তার বিরুদ্ধে হওয়া আট মামলার মধ্যে ছয়টিতে জামিন মিললেও হাটহাজারী ও চান্দগাঁও থানার দুই মামলায় তিনি এখনো কারাগারে। এরই মধ্যে গত ৯ সেপ্টেম্বর ইউনিয়নের ১০ সদস্য স্বাক্ষর করে এলজিএস আইন-২০০৯ অনুযায়ী ছয়টি অভিযোগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর জমা দেন। অভিযোগটি জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালকের কাছেও প্রেরণ করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, প্যানেল চেয়ারম্যান গঠনে অনিয়ম, সদস্যদের জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া, প্রকল্প বিতরণে স্বেচ্ছাচারিতা এবং অফিসকক্ষে নারী নিয়ে আপত্তিকর অবস্থায় পাওয়া যাওয়ার মতো গুরুতর বিষয় রয়েছে।
স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, মনছুরের রাজনৈতিক উত্থান ছিল হঠাৎ। প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফিরে তিনি বিপুল অর্থ ব্যয় করে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদ অর্জন করেন। পরে নির্বাচনকেন্দ্রে হামলা ও ব্যালট ছিনতাইয়ের মাধ্যমে ধলই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। করোনাকালে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ বিতরণের নামে ‘মানবিক নেতা’ হিসেবে নিজের ভাবমূর্তি তৈরির চেষ্টা করেন। এমনকি নিজের পক্ষে প্রচারের জন্য কয়েকজন ইউটিউবার ও নামমাত্র পত্রিকার সাংবাদিকও ব্যবহার করেছেন।
সূত্র জানায়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় হাটহাজারী, ফটিকছড়ি, রাউজান, চান্দগাঁও ও বাকলিয়া থানায় তার বিরুদ্ধে মোট আটটি মামলা হয়। গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি এলাকায় পাহারাদার নিয়োগ করেছিলেন। গত ৫ ফেব্রুয়ারি ডিবি ও হাটহাজারী থানার পুলিশের যৌথ অভিযানে গ্রেপ্তারের সময় তার বাহিনী পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। এ ঘটনায় সাতজন আহত হয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং তাকে থানায় নিয়ে যায়। এই সময় মনছুরের সমর্থকরা হাটহাজারী–খাগড়াছড়ি মহাসড়ক অবরোধ করেন, যা পরে সেনাবাহিনী ও র্যাব নিয়ন্ত্রণে আনে।
এদিকে হাটহাজারীতে ডিবি পুলিশ ও থানা পুলিশের উপর হামলা এবং আওযামী লীগের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে পরেরদিন ৬ ফ্রেব্রুয়ারি বিক্ষোভ মিছিল করেন উপজেলা বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। ওই সময় হাটহাজারী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব গিয়াস উদ্দিন চেয়ারম্যান বলেন, ধলই ইউপি চেয়ারমান আবুল মনছুরকে ডিবি পুলিশ আটক করতে আসলে তার কর্মীবাহিনীরা ভিবি পুলিশের উপর অতর্কিতে হামলা চালায়। পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় আমরা বিএনপি পরিবার প্রতিবাদ জানাই।
হাটহাজারী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন চেয়ারম্যান বলেন, কেউ যদি জেল থেকে বেরিয়ে দুধ দিয়ে গোসল করে মুজিব কোর্ট পোড়ায় বা আ.লীগের রাজনীতি আর করবে না বলে শপথ করে সেটা জনগণ দেখবে। কিন্তু অন্য রাজনৈতিক দল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগদানে কোন নির্দেশনা আমাদের নাই।
হাটহাজারী উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আলহাজ্ব নুর মোহাম্মদ বলেন, মনছুর চেয়ারম্যান বিএনপিতে যোগদানের কোন মেসেজ আমাদের কাছে নাই। এবিষয়ে আমি অবগত নই।




