বিশেষ প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী পুনর্বিবেচনার দাবিতে রাজধানীর নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেছে অ্যাডভোকেট আবেদ রাজা সাপোর্টার্স ফোরাম-এর ‘অঙ্গিকার বন্ধন’। এসময় নেতাকর্মীরা বর্তমান প্রাথমিক প্রার্থী বাতিল করে ত্যাগী নেতা অ্যাডভোকেট আবেদ রাজাকে পুনরায় বিবেচনায় নেওয়ার দাবি জানান।
“যিনি কাউন্সিলে নেতাকর্মীদের কাছে হেরেছেন, তিনি জনগণের ভোটে জিতবেন কিভাবে?”
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন—কুলাউড়ায় সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিএনপির কাউন্সিলে বর্তমান প্রাথমিক প্রার্থী নেতাকর্মীদের কাছে পরাজিত হয়েছেন। তারা বলেন,
“যিনি তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছে পরাজিত হন, তিনি দেশের মানুষের ভোট নিয়ে কিভাবে নির্বাচিত হবেন?”
মানববন্ধন থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বরাবর প্রাথমিক প্রার্থী প্রত্যাহারের স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়। অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব মৌলভীবাজার-২ আসনে প্রার্থী পুনর্বিবেচনা করবে।
আবেদ রাজার অভিযোগ: ‘যাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে তিনি কখনো জেলে যাননি’
বক্তব্যে অ্যাডভোকেট আবেদ রাজা বলেন—
“কুলাউড়ায় এমন একজনকে প্রাথমিক মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, যিনি এক মিনিটও জেলে যাননি, কোনো মামলা নেই, আন্দোলনের সময় লন্ডনে চলে গেছেন। এটা আমার কথা নয়—কুলাউড়ার সবাই জানেন।”
তিনি দাবি করেন—
তিনি ১৭ বছর ধরে বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামের মাঠে,
একাধিকবার জেল খেটেছেন,
হামলায় আহত হয়েছেন,
২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ধানের শীষের প্রার্থী ছিলেন,
সাম্প্রতিক নির্বাচনেও তিনি মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন কিন্তু ত্যাগ-সংগ্রাম থাকা সত্ত্বেও তার নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।
তার অভিযোগ, ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে সুবিধাভোগী ব্যক্তিকে প্রাধান্য দেওয়া হলে বিএনপি কুলাউড়ায় রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন আহ্বায়ক এনাম আহমদ এবং সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ।
অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন—
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাবেক সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট শাহ মো. খসরুজ্জামান,
কৃষক দলের সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম খান,
সাবেক ছাত্রদল নেত্রী নিশিতা,
সিলেট বিভাগ উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের নেতা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী,
কুলাউড়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আব্দুর রহমানসহ আরও অনেকে।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি—অ্যাডভোকেট আবেদ রাজা কুলাউড়ার রাজনীতিতে ত্যাগী, সংগ্রামী ও মাঠের পরীক্ষিত নেতা। আন্দোলন-কেন্দ্রিক রাজনীতির সময় একাধিকবার হামলা-মামলার শিকার হওয়া, কারাভোগ এবং দলের প্রতি দীর্ঘসময় আনুগত্য তার জনপ্রিয়তাকে আরও গভীর করেছে।
সমর্থকদের মতে, এমন একজন নেতাকে বাদ দিয়ে যাকে প্রাথমিক মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে তিনি এলাকায় গ্রহণযোগ্য নয়।
নেতাকর্মীরা বলেন—
“ত্যাগী ও জনপ্রিয় নেতাকে বাদ দেওয়া হলে তৃণমূল তা মেনে নেবে না। দলকেই বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।”
তারা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে মৌলভীবাজার-২ আসনের মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার জোর দাবি জানান।




