Skip to content
প্রকাশ- November 2, 2026 , 22:04 pm
অন্যান্য

মাদারগঞ্জে স্কুলের মাঠ দখল করে গড়ে উঠেছে স্যানিটারি ব্যবসা

মাদারগঞ্জে স্কুলের মাঠ দখল করে গড়ে উঠেছে স্যানিটারি ব্যবসা

Oplus_131072

মাদারগঞ্জ প্রতিনিধি

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার ইসলামাবাদ ওয়াসিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ দখল করে দীর্ঘদিন ধরে স্যানিটারি ব্যবসা চালাচ্ছে ‘মেসার্স আলমগীর এন্টারপ্রাইজ’। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের একাধিক নোটিশের পরও এখনো জায়গা খালি করেননি অভিযুক্ত ব্যবসায়ী আলমগীর কবির।

Advertisement

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয় মাঠের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে একটি টিনসেড ঘর নির্মাণ করে সেখানে স্থাপন করা হয়েছে ‘মেসার্স আলমগীর এন্টারপ্রাইজ’ নামের সাইনবোর্ড। ঘরটির চারপাশে স্যানিটারি সামগ্রী ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। দেখে মনে হয় যেন এটি একটি স্থায়ী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ নয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইউপি চেয়ারম্যান ও তৎকালীন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমানের সময় রেজুলেশনের মাধ্যমে মাসিক ১,৫০০ টাকায় ওই জায়গা ভাড়া দেওয়া হয়। আলমগীর কবির স্থানীয় আওয়ামী লীগের সদস্য হওয়ায় প্রভাব খাটিয়ে মাঠের একাংশ দখল করে নেন বলে অভিযোগ।

বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী হাসান মুর্তুজা ও নবির হোসেন বলেন, “আমরা মাঠে খেলতে গিয়ে স্যানিটারি সামগ্রীতে ধাক্কা খেয়ে আঘাত পাই। মাঠে এখন আর স্বাভাবিকভাবে খেলা যায় না।”

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজাহারুল ইসলাম বলেন,
“বিগত ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিদ্যালয় তহবিল বৃদ্ধির জন্য জায়গাটি সম্পূর্ণ অস্থায়ী ভিত্তিতে ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। চুক্তিতে উল্লেখ ছিল, বিদ্যালয়ের প্রয়োজনে যেকোনো সময় জায়গা খালি করতে হবে।”

তিনি আরও জানান, “স্থানীয় গণ্যমান্যদের অনুরোধে আলমগীরকে তিন দফা নোটিশ দেওয়া হয়—প্রথমে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৪, পরে ২৩ অক্টোবর ২০২৫ এবং সর্বশেষ এডহক কমিটির মাধ্যমে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জায়গা না ছাড়লে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অভিযুক্ত ব্যবসায়ী আলমগীর কবির বলেন, “বিগত কমিটি আমাকে তিন বছরের জন্য জায়গা ভাড়া দিয়েছে। দুই দফা নোটিশ পেয়েছি। আমি যদি সময় বাড়িয়ে নিতে পারি, তাহলে ব্যবসা চালিয়ে যাবো।”

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ছানোয়ার হোসেন বলেন, “শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত। অন্য কোনো কাজে এটি ব্যবহার করা যায় না। যদি স্কুল কর্তৃপক্ষ এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে, তা অবশ্যই অনুচিত। তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Advertisement