জামালপুরের মেলান্দহ পৌরসভা ও আদ্রা ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন ও কৃষকদের সঙ্গে যোগাযোগ না করার অভিযোগ উঠেছে। এতে কৃষি সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যায় প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। এমনকি অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে ইউটিউব দেখে ফসলের জমিতে সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করছেন বলেও জানিয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, মেলান্দহ পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান এবং আদ্রা ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান নিয়মিত কৃষকদের ফসলের মাঠ পরিদর্শন করেন না। মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগও কম বলে দাবি স্থানীয় কৃষকদের।
কৃষকদের অভিযোগ, চলতি রোপা আমন মৌসুমে জমি প্রস্তুত, সার প্রয়োগ, রোগবালাই ও পোকামাকড় দমনসহ বিভিন্ন বিষয়ে কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ প্রয়োজন হলেও অনেক সময় তাদের মাঠে পাওয়া যায় না। ফলে কৃষকরা স্থানীয় কীটনাশক ও সারের দোকান থেকে পরামর্শ নিয়ে ফসলে কীটনাশক প্রয়োগ করছেন।
নয়ানগর এলাকার কৃষক মো. আলম বলেন, “আমার ক্ষেতে পোকা ধরেছে। কোনো কৃষি অফিসার আসেন না। দোকান থেকে পরামর্শ নিয়ে আমরা ক্ষেতে বিষ দিই। নয়ানগর মোড়ের সারের ও বিষের দোকানে এসে চলে যান। কোনো পরামর্শ না পাওয়ায় বাড়তি দামে সার কিনতে হয়।”
দিঘলবাড়ি এলাকার কৃষক সোহেল বলেন, “কোনো উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা (বিএস) আসেন না। দোকান থেকে বিষ এনে ক্ষেতে দিই। এটাই আমাদের পরামর্শ। ফসলের মাঠে কোনো সময় কৃষি অফিসারকে দেখি না।”
আরেক কৃষক বলেন, “ইরি-বোরো আবাদ করি, কোনো কৃষি অফিসারকে দেখি না। আবাদ করার সময়ও কোনো অফিসার আসেননি। ক্ষেতে পোকা ধরলে সারের দোকানে গিয়ে বলি। কোথায় গেলে পরামর্শ পাব, সেটাও জানি না।”
শরবত নামের এক কৃষক বলেন, “কোনো উপসহকারী আসেন না। দোকান থেকে পরামর্শ নিয়ে আবাদ করি।”
আনোয়ার নামের আরেক কৃষক বলেন, “পাকিস্তান আমল থেকে আবাদ করি। কোনো উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা (বিএস) আসেন না। দোকানে গিয়ে বলি পোকা ধরেছে, তারা বিষ দিয়ে দেয়। আমার কৃষি কার্ড থাকলেও কোনো সুবিধা পাই না।”
আদ্রা ইউনিয়নের আদ্রা এলাকার কৃষক আলাউদ্দিন বলেন, “কোনো কৃষি অফিসার এলাকায় আসেন না। তাই ইউটিউব দেখে ক্ষেতে সার ও বিষ প্রয়োগ করি। ইউটিউব থেকেই জানতে পারি কোন সার কত পরিমাণ দিতে হবে।”
পশ্চিম আদ্রা এলাকার কৃষক জুরশেভ অভিযোগ করে বলেন, “যাদের সঙ্গে অফিসারের সখ্যতা আছে, তাদের বাড়িতে গিয়ে বসেন। তাদেরই সার দেন। অন্য কৃষকদের সঙ্গে তেমন দেখা-সাক্ষাৎ করেন না। তাই নিজের পরামর্শেই আবাদ করি।”
একই এলাকার কৃষক জাকির বলেন, “যাদের বাড়িতে বড় বড় বিল্ডিং ও ছাদ আছে, অফিসার তাদের বাড়িতে গিয়ে বসেন। আমরা ভুট্টার আবাদ করি, কিন্তু উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা (বিএস) কে, সেটাও বলতে পারি না।”
কৃষকদের অভিযোগ, মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা হলে ফসলের রোগবালাই শনাক্তকরণ, সার ও কীটনাশকের সঠিক ব্যবহার এবং কৃষি উপকরণের বিষয়ে তারা প্রয়োজনীয় পরামর্শ পেতেন। এতে উৎপাদনও বাড়ানো সম্ভব হতো বলে মনে করছেন তারা।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাদের বক্তব্য জানা যায়নি।
মেলান্দহ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুর রউফ বলেন, “কৃষকরা অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


