জামালপুরের মাদারগঞ্জে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের পর রূপসী (১৫) নামে এক কিশোরীকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে তার প্রেমিক আল জিহাদ ওরফে রাকিবকে (২১) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার প্রায় ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার হাড়গিলা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার আল জিহাদ ওরফে রাকিব মাদারগঞ্জ উপজেলার চর পাকেরদহ ইউনিয়নের কোয়ালিকান্দি এলাকার আল মাহমুদ আহমেদের ছেলে। নিহত রূপসী একই ইউনিয়নের ঘোনাপাড়া এলাকার ছায়ের উদ্দিনের মেয়ে।
পুলিশ জানায়, গত ২৮ আগস্ট সকালে চর পাকেরদহ ইউনিয়নের একটি সেচ পাম্পের ঘর থেকে রূপসীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার হাতে মেহেদি দিয়ে ‘রাকিব’ নাম লেখা ছিল। এ সূত্র ধরে তদন্তে নামে পুলিশ। পরে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ইসলামপুর উপজেলার হাড়গিলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাকিবকে তার এক আত্মীয়ের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের প্রেস ব্রিফিংয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (মাদারগঞ্জ সার্কেল) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, তদন্তে জানা যায়, ২০২৪ সালে রূপসীর সঙ্গে আল জিহাদের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে আল জিহাদ বিয়ে করে এবং তার একটি সন্তান হয়। এরপর রূপসীর সঙ্গে তার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। রূপসীর বাবাও তার কাছ থেকে সিম নিয়ে নেওয়ায় তাদের যোগাযোগ বন্ধ ছিল।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন পর রূপসী আবার ওই সিম ব্যবহার শুরু করলে আল জিহাদের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়। রূপসী তাকে বিয়ে করে সংসার করার জন্য চাপ দিতে থাকে। একপর্যায়ে আল জিহাদ তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে পরিকল্পিতভাবে ডেকে নেয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
পুলিশের দাবি, আল জিহাদ রূপসীকে একটি সেচ পাম্পের ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ধর্ষণের পর তার পরনের ওড়না গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। রূপসী সম্পর্কের কথা প্রকাশ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল বলেও পুলিশের তদন্তে জানা গেছে।
সহকারী পুলিশ সুপার আরও জানান, ঘটনার পর আল জিহাদ আত্মগোপনে চলে যায়। জামালপুরের পুলিশ সুপার মোছা. ফারহানা ইয়াসমিনের নির্দেশনায় মাদারগঞ্জ সার্কেল এএসপি মো. মোস্তাফিজুর রহমান, ওসি স্নেহাশিস রায়, এসআই আসিফসহ পুলিশের একটি দল বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। পরে ইসলামপুরের হাড়গিলা এলাকায় এক আত্মীয়ের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের পর আল জিহাদকে আদালতে পাঠানো হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
মাদারগঞ্জ মডেল থানার পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা-ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।


